খবরটা ছড়িয়ে পড়ল নারী দিবসেই। ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি শাসিত রাজস্থানে মেয়েদের কলেজে যেতে হবে শাড়ি কিংবা সালোয়ার-কামিজ পরে। জিন্স, স্কার্টের মতো পোশাক পুরোপুরি নিষিদ্ধ। এ খবর ছড়িযে পড়লে সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনা শুরু হয়।
একজন লিখেছেন, ‘গোটা বিশ্ব এগিয়ে চলেছে। রাজস্থানে আমরা কিন্তু অনেকটাই পিছিয়ে পড়লাম।’ আরেক পোস্টে বলা হয়েছে, ‘পছন্দ অনুযায়ী পোশাক পরার স্বাধীনতাও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এটা তো ফতোয়ার শামিল...’।
রাজস্থানের সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি কলেজের কাছে নির্দেশিকা পাঠিয়ে রাজ্যের কমিশনারেট অব কলেজ এডুকেশন জানিয়েছে, ‘আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই চালু হবে ড্রেস কোড।’
কমিশনারেট অব কলেজ এডুকেশনের নির্দেশ, স্কুলে যেমন ড্রেস থাকে, সেই একই ব্যবস্থা চালু করতে হবে রাজ্যের সব কলেজে। জিন্স কিংবা স্কার্টের মতো পোশাকে কলেজে আসা চলবে না। পরতে হবে শাড়ি। সালোয়ার-কামিজও চলতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে দোপাট্টা বাধ্যমূলক।
বিরোধী দল কংগ্রেসের অভিযোগ, ভারতের বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে শিক্ষার নামে চলছে গৈরিকীকরণ। সম্প্রতি রাজস্থানে স্কুল শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে সাইকেল বিতরণ করা হয়েছে, তার রঙ তাৎপর্যপূর্ণভাবে গেরুয়া। ক্ষমতায় আসার পরই মেয়েদের কলেজে ড্রেস কোড চালুর নির্দেশ দিয়েছিলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। এবার সে তালিকায় যুক্ত হল বিজেপিশাসিত আরেক রাজ্য রাজস্থান।
পোশাকের স্বাধীনতা হরণের অভিযোগে এ ইস্যুতে সোচ্চার নারী সংগঠনগুলো। প্রতিবাদী পোস্ট আসছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সমালোচনার মুখে একটা ব্যাখ্যা দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছেন রাজস্থানের শিক্ষামন্ত্রী কিরণ মাহেশ্বরী। তার যুক্তি, ‘কলেজে বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতে ড্রেস কোড চালু করা হয়েছে। নারীদের পোশাক বাছাইয়ের স্বাধীনতা হরণের প্রশ্নই ওঠে না।’ সূত্র: আনন্দবাজার।








