আফগান সরকারের দেওয়া শান্তি আলোচনার প্রস্তাব মেনে নিতে তালেবানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। বৃহস্পতিবার (৮ মার্চ) নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে আফগানিস্তানে নিয়োজিত জাতিসংঘের দূত তাদামিচি ইয়ামামোতো বলেন, ‘আলোচনার প্রস্তাবটি টেবিলেই রাখা আছে।’ পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ-বিধ্বস্ত আফগানিস্তানে জাতিসংঘ মিশনের কর্মসূচির বার্ষিক পুনঃনবায়ন করতে ওই বৈঠক ডাকা হয়েছিল।
৯/১১ হামলার পর ২০০১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। আল কায়েদাকে সমর্থন ও আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী ওই যুদ্ধে তালেবানরা ক্ষমতা থেকে উৎখাত হলে মার্কিন সমর্থনে সেখানে নতুন সরকার গঠিত হয়। কয়েক দফা সাধারণ নির্বাচনে সেই ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও ১৬ বছরেও শেষ হয়নি সন্ত্রাসবাদ বিরোধী যুদ্ধ। বেশ কয়েক দফা শান্তি আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা ভেস্তে যায়। ফেব্রুয়ারিতে আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি তালেবান সদস্যদের সরাসরি আলোচনায় বসার প্রস্তাব দেন। তিনি জানান, স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার স্বার্থে আটকাবস্থায় থাকা তালেবান সদস্যদের মুক্তি দিতেও রাজি আছেন।শান্তি আলোচনায় অংশ নেওয়া তালেবান সদস্যদের জন্য পাসপোর্ট-ভিসার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতেরও আশ্বাস দেন ঘানি। তবে বিনিময়ে তালেবান সদস্যদের শর্ত দেওয়া হয়, আফগান সরকার ও সংবিধানকে স্বীকার করতে হবে তাদের।
বৃহস্পতিবার আফগান সরকারের এ প্রস্তাবটি মেনে নেওয়ার জন্য তালেবানের প্রতি আহ্বান জানান আফগানিস্তানে নিয়োজিত জাতিসংঘের দূত তাদামিচি ইয়ামামোতো। নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে তিনি বলেন, ‘তালেবান এখন নিজেদের প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে আসবে কিনা এবং আফগান জনগণের ভোগান্তির অবসানের জন্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা শুরু করবে কিনা তা তাদের উপর নির্ভর করছে।’
ইয়ামামোতো বলেন, ‘শান্তি স্থাপন এবং প্রতিপক্ষের কাছে পৌঁছানো জন্য সমাধান প্রস্তাব, সাহস এবং সব কিছু ছাপিয়ে জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন হয়। রাজনৈতিক নেতাদের উচিত জাতীয় স্বার্থকে পক্ষপাতমূলক এজেন্ডার ঊর্ধ্বে রাখা।’
ইয়ামামোতো আশা প্রকাশ করেন, ২০১৮ সালে আফগানিস্তানে পার্লামেন্ট নির্বাচন হবে এবং ২০১৯ সালে হবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন।
২০০২ সালের মার্চে আফগানিস্তানে জাতিসংঘের মিশন শুরু হয়েছিল। অনেক স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ দেশ গঠনে আফগান জনগণকে সহায়তা করার জন্য এ মিশনটি চালু হয়েছিল। তবে ১৬ বছরেও দেশটিতে শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা যায়নি।








