ভারতে স্বেচ্ছামৃত্যুর অধিকারের ঐতিহাসিক স্বীকৃতি

বিদেশ ডেস্ক
০৯ মার্চ ২০১৮, ১৬:৪৬আপডেট : ০৯ মার্চ ২০১৮, ১৯:১৪
image

ভারতে স্বীকৃত হলো দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত মরণাপন্ন ব্যক্তিদের স্বেচ্ছামৃত্যুর অধিকার। শুক্রবার (৯ মার্চ) সর্বোচ্চ আদালতের এক ঐতিহাসিক রায়ে 'সম্মানজনক মৃত্যুর অধিকার' স্বীকৃত হয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে, ‘সম্মানজনক মৃত্যু পাওয়ার অধিকার প্রতিটি মানুষের রয়েছে। কোনও ব্যক্তির ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাঁকে কৃত্রিমভাবে বাঁচিয়ে রেখে সেই অধিকার খর্ব করা যাবে না।‌’‌ স্বেচ্ছামৃত্যু নিয়ে আইন প্রণয়ন করার নির্দেশও কেন্দ্রকে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আর সেই আইন না হওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট একটি গাইডলাইনও তৈরি করে দিয়েছেন দেশের শীর্ষ আদালত। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

ভারতের শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিয়েছেন, চিকিৎসায় সুস্থ হতে পারবেন না, এমন কোনও ব্যক্তি যদি ভেন্টিলেটর কিংবা লাইফ সাপোর্ট সিস্টেমের সাহায্যে বেঁচে থাকতে না চান, তবে তাকে সজ্ঞানে "লিভিং উইল" করে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন করে রাখতে হবে। রোগী যদি এমন অচেতন অবস্থায় পৌঁছে যান যে সেই অবস্থা থেকে ফেরানোর আর সম্ভাবনা নেই, তখন সেই উইল বা ইচ্ছাপত্রের ভিত্তিতে হাইকোর্টে আবেদন করতে পারেন রোগীর ঘনিষ্ঠ বন্ধু বা নিকট কোনও আত্মীয়। এরপর আদালতের নির্দেশের ভিত্তিতে গঠিত মেডিক্যাল বোর্ড বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। যতদিন না স্বেচ্ছামৃত্যু নিয়ে আইন আসছে ততদিন পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের কড়া গাইডলাইন মেনে এই অধিকার পাবেন ভারতবাসী। 
অন্য অনেক দেশের মতো ভারতীয় সংবিধান অনুসারে আত্মহত্যা অপরাধ। স্বেচ্ছামৃত্যু নিয়েও ছিল না কোনও আইন। বিধান অনুযায়ী, সেরে ওঠার সম্ভাবনা না থাকলেও যতক্ষণ রোগীর হৃদপিণ্ড সচল থাকবে, ততক্ষণ চিকিৎসা বন্ধ করা যায় না। আর এই স্বেচ্ছামৃত্যু দেওয়া নিয়েই গত সাত বছর ধরে বিতর্ক চলছে। মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালের নার্স ছিলেন অরুণা শানবাগ। ১৯৭৩ সালে সেই হাসপাতালেরই এক কর্মীর হাতে ধর্ষিত হন তিনি। ৪২ বছর ধরে হাসপাতালে কোমায় ছিলেন তিনি। ২০১১ সালে অরুণার পক্ষে সুপ্রিম কোর্টে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন করেছিলেন সাংবাদিক পিংকি ভিরানি। তখন অবশ্য সেই আবেদন খারিজ হয়ে গিয়েছিল। ২০১৫ সালে মারা যান অরুণা শানবাগ।


অরুণার মৃত্যুর বিষয়টি তখনকার মতো ধামাচাপা পড়লেও সম্প্রতি মানুষের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার অধিকারের স্বীকৃতির দাবি জানিয়ে ফের সুপ্রিম কোর্টে মামলা করে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়ে "কমন-কজ" নামের ওই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বলেছিল, "বেঁচে থাকাটা মানুষের ব্যক্তিগত অধিকার। ঠিক তেমনই মরণাপন্ন কোনও ব্যক্তি যদি রোগ-যন্ত্রণা ভোগ করার বদলে সম্মানের সঙ্গে মরতে চান, তবে তাকেও সে অধিকার দেওয়া উচিত।" এদিন সেই মামলার শুনানিতেই এই রায় আদালতের।  
প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের নেতৃত্বে ৫ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ এই রায়ে সুস্থ হয়ে ওঠার আর কোনও সম্ভাবনা নেই, এরকম রোগীকে শর্তসাপেক্ষে স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দিয়েছে। শর্ত অনুযায়ী স্বেচ্ছামৃত্যুর অপরিহার্যতা প্রমাণে অবশ্যই মেডিক্যাল বোর্ডের সম্মতি লাগবে। কেবল মেডিক্যাল বোর্ড সম্মতি দিলেই ওই রোগীদের লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম সরিয়ে স্বেচ্ছামৃত্যু নিশ্চিত করা যাবে। স্বেচ্ছামৃত্যুর জন্য অসুস্থ ব্যক্তি বা তার পরিবারের লোকজন আবেদন করতে পারবেন। তবে মেডিক্যাল বোর্ডই শেষ সিদ্ধান্ত নেবে। 

/এফইউ/বিএ/চেক-এমওএফ/
সম্পর্কিত
হাদি হত্যা নিয়ে মন্তব্যের জের, মমতার বিরুদ্ধে মামলা
রাস্তায় তোশক আর মুখে মুখ, দিল্লির আগুনে যেভাবে ‘হিরো’ হলেন স্থানীয়রা
শেষ মুহূর্তেও একে অপরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছিলেন তারা
সর্বশেষ খবর
হবিগঞ্জে নারীর মুখে এসিড নিক্ষেপ, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ
হবিগঞ্জে নারীর মুখে এসিড নিক্ষেপ, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ
বগুড়ায় দই বিক্রি করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা গুনলেন ব্যবসায়ী 
বগুড়ায় দই বিক্রি করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা গুনলেন ব্যবসায়ী 
৩৮ বছর বাড়ি ফিরে বিপদে জবেদ, স্ত্রী বললেন স্বামী হিসেবে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়
৩৮ বছর বাড়ি ফিরে বিপদে জবেদ, স্ত্রী বললেন স্বামী হিসেবে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়
বিপর্যয়ের মুখে সুন্দরবন
বিপর্যয়ের মুখে সুন্দরবন
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি