উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের চীন সফরের গুজব উঠলেও দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা এই সফরের ব্যাপারে অবগত নয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে মঙ্গলবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনিয়ান ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, ব্লুমবার্গের দাবি করা পরিস্থিতি সম্পর্কে তারা অবগত নন। সে সময় উ. কোরিয়ার সঙ্গে চীনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে 'ঐতিহ্যগতভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ' আখ্যা দেন তিনি।
নিয়মিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে হুয়া চুনিয়ান বলেন, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে তাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আছে। তবে কিমের সফর সঙ্গে তিনি অবগত নন।
সোমবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ এক প্রতিবেদনে দাবি করে যে কিম জং উন চীন সফর করছেন। নাম প্রকাশ না করে তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি একথা জানায়। তাদের বরাত দিয়ে খবর প্রকাশ করলেও সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি রয়টার্স।
এদিকে সোমবার জাপানের সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করে, উত্তর কোরিয়ার উচ্চপর্যায়ের একজন কর্মকর্তা ট্রেনে করে বেইজিং পৌঁছেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কিমের সম্ভাবনাময় বৈঠকের আগে এই সফরের গুজব উঠলো। বেইজিং প্রথম থেকেই গোপনীয়তাপূর্ণ ও বিশ্ব সম্প্রদায় থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন উত্তর কোরিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র।
প্রাত্যাহিক সংবাদ সম্মেলনেই কিম জংয়ের চীন সফর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে হুয়া চুনিং বলেন, তিনি এ সম্পর্কে কিছু জানেন না। সোমবার বিকেলেও বেইজিংয়ে উত্তর কোরীয় দূতাবাস থেকে কেউ টেলিফোনে এ সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তর দেননি
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সোমবার রাতে রয়টার্সের সাংবাদিকরা কালো কাঁচের একটি লিমোজিন গাড়ির দুই পাশে মোটর শোভাযাত্রা নিয়ে চানগান অ্যাভিনিউ দিয়ে যেতে দেখেছেন। শোভাযাত্রাটি পুলিশের কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় দিয়াওতাই অতিথিশালার দিকে যায়।
চীনের সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র রয়টার্সকে জানায়,কিমের বেইজিং সফরের সম্ভাবনাকে নাকচ করে দেওয়া যায় না। তবে বিষয়টি নিশ্চিত নয় বলেও জানিয়েছে সূত্রটি। একটি কূটনৈতিক সূত্র রয়টার্সকে বলেছে, দিয়াওতাই রাষ্ট্রীয় অতিথিশালায় কঠোর নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে। সেখানে উচ্চপর্যায়ের বিদেশি সফরকারীরা অবস্থান করেন। অন্যান্য কূটনৈতিক সূত্র বলেছে, তারাও কিমের সফরের গুজবের ব্যাপারে সচেতন রয়েছেন, কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হতে পারেননি।
এর আগে দ্বিতীয় কিম জংয়ের সফরের বিষয়টিও তার সফর শেষে নিশ্চিত করেছিল চীন ও উত্তর কোরিয়া। রাশিয়া সফরের সময়ও দ্বিতীয় কিম জং কঠোর নিরাপত্তায় ব্যক্তিগত ট্রেন ব্যবহার করেছিলেন। কূটনীতিক ও অন্যান্য সূত্র জানায়, নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি বিমান ভ্রমণ করতেন না। তবে তরুণ কিম জং উন সুইজারল্যান্ডে পড়াশোনা করেছেন। আর তিনি বিমান ভ্রমণে ভয় পান না। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এর আগে তার বিমানে করে বিদেশ যাওয়ার ছবি প্রকাশ করেছিল। ২০১১ সালে পিতার মৃত্যুর পর ক্ষমতা গ্রহণ করেন কিম জং উন। তখন থেকে তার বিদেশ সফরের কোনও খবর পাওয়া যায়নি।








