পাকিস্তানের সাত প্রতিষ্ঠানকে যুক্তরাষ্ট্র নজরদারিতে রাখার সিদ্ধান্তের জবাব দিয়েছে দেশটির সরকার। পারমাণবিক নিরাপত্তা নিয়ে নিজেদের পূর্বের ইতিহাস তুলে ধরে পাকিস্তান জানায়, প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে সন্দেহের কারণে পাকিস্তানকে দোষারোপ করা ঠিক হবে না।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পারমাণবিক শক্তিধর যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যকার সুসম্পর্কে বিগত কয়েক বছরে ফাটল ধরেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ আফগানিস্তানে জঙ্গিদের সমর্থন দেয় পাকিস্তান। যদিও ইসলামাবাদ বারবারই এই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে।
মার্কিন শিল্প, বাণিজ্য ও নিরাপত্তা বিষয়ক দফতর ২২ মার্চ পাকিস্তানি ৭টি প্রতিষ্ঠানকে ‘এনটিটি লিস্ট’ এ অন্তর্ভূক্ত করে। তারা জানিয়েছে, নজরদারি তালিকায় নাম লেখানো প্রতিষ্ঠানগুলোর তিনটি অনসুরক্ষিত পারমাণবিক শক্তি সংক্রান্ত বিষয়ে সম্পৃক্ততা বাড়িয়েছিল। অন্য দুটি পরমাণবিক শক্তি সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানের জন্য পণ্য বা প্রযুক্তি কিনেছিল এবং আরও দুই প্রতিষ্ঠান তাদেরকে সাহায্য করেছিল। এই পর্যায়ে পাকিস্তানি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে মোট ২৩টি প্রতিষ্ঠানকে নজরদারি তালিকায় রেখেছে তারা, যার মধ্যে ১৫টি দক্ষিণ সুদানের
রফতানি নজরদারির ওই তালিকাতে এমন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় যাদের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা বা পররাষ্ট্র নীতির স্বার্থবিরুদ্ধ কাজে জড়িত হয়েছে বা জড়িত হওয়ার বড় আশঙ্কার মধ্যে রয়েছে। রফতানি নজরদারি তালিকায় নাম ওঠা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের রফতানি নিয়ন্ত্রণ আইনের (ইএআর) আওতায় থাকা পণ্য কিনতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আলাদা করে অনুমতি নিতে হয়। ওই তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করাটা যুক্তরাষ্ট্রের রফতানি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা হিসেবে দেখা হয়। এর মূল লক্ষ্য, সামরিক কাজে ব্যবহার করা হতে পারে এমন প্রযুক্তি ও পণ্যের রফতানি আটকে দেওয়া
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দফতর জানায় বিশ্বের অনেক প্রতিষ্ঠানই যুক্তরাষ্ট্রের ওই তালিকায় রয়েছে। এই বিষয়টি পাকিস্তানের প্রতিপক্ষদের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা ঠিক হবে না। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, পারমাণবিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে পাকিস্তানের ভূমিকা সবাই জানে। আর এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তান একসঙ্গে কাজ করেছে। আমরা নিন্দুকের কোনও কথায় পাত্তা দিতে চাই না।’
এদিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছিল, ভারতের কর্মকর্তারা এ নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষিতে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তাদের ভাষ্য, পাকিস্তানি প্রতিষ্ঠান নজরদারি তালিকায় থাকলে ‘নিউক্লিয়ার সাপ্লাই গ্রুপে’ (এনএসজি) ভারতের যোগদান সহজ হবে। পারমাণবিক অস্ত্র বানাতেপ্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি রফতানিকারক দেশগুলোর ওই জোটে যোগ দেওয়াটা বাধাগ্রস্ত হবে পাকিস্তানের জন্য।








