অবশেষে সোয়াতের নিজ বাড়িতে ফিরলেন শান্তিতে নোবেলজয়ী পাকিস্তানের মানবাধিকারকর্মী মালালা ইউসুফজাই। শনিবার দেশটির দুইজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে চারদিনের সফরে বৃহস্পতিবার দেশে ফিরেন ২০ বছরের মালালা। তালেবানের গুলিতে আহত হয়ে দেশ ছাড়ার পর এই প্রথম তিনি পাকিস্তানে ফিরলেন।
শনিবার মালালার বাড়ি যাওয়া উপলক্ষ্যে নিরাপত্তার অংশ হিসেবে সোয়াতের মিঙ্গোরায় তার বাড়ি যাওয়ার পথের রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
প্রায় ছয় বছর পর দেশে ফিরলেও এর আগে নিজ শহর সোয়াত উপত্যকায় মালালা যেতে পারবেন কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। ওই এলাকায় যেতে সরকারের কাছ থেকে নিরাপত্তা ছাড়পত্র পেতেও কিছুটা বিলম্ব ঘটে। ওই সময়ে পাকিস্তানের একজন নারী অধিকারকর্মী জানিয়েছিলেন, মালালা সোয়াতে যেতে আগ্রহী। কিন্তু সরকারের কাছ থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার ওপরই নির্ভর করছে মালালা সেখানে যাবেন কি যাবেন না। তবে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শনিবার জন্মশহরে পৌঁছান তিনি।
কিশোর বয়স থেকেই নারী শিক্ষা ও অধিকার আদায়ে আওয়াজ তুলেছেন মালালা। তার বাবা মেয়েদের একটি স্কুল চালাতেন। প্রায়ই টেলিভিশনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নারী শিক্ষা নিয়ে কথা বলতে দেখা যেত মালালাকে। ২০১২ সালের ৯ অক্টোবর মালালার স্কুল বাসে উঠে পড়ে মুখোশধারী তালেবানরা। নাম ধরেই খুঁজতে থাকে তাকে। সামনে আসার পর তাকে গুলি করে চলে যায় তালেবানরা। তৎক্ষণাৎ তাকে যুক্তরাজ্যে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। কয়েক মাসের চেষ্টায় তার মাথার খুলি ঠিক করতে সক্ষম হয় ডাক্তাররা। এরপর থেকেই বাড়ি ফিরতে পারছিলেন না তিনি। কিন্তু বিশ্বে নারী অধিকার আদায় আন্দোলনের প্রতীক হয়ে উঠেন মালালা। ২০১৪ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান মালালা। তিনিই বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী নোবেল বিজয়ী।
যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পর ২৯ মার্চ প্রথমবারের মতো দেশে ফেরেন মালালা। তবে তার দেশে ফেরা নিয়ে আগাম কোনও ঘোষণা দেওয়া ছিল না। সূত্রকে উদ্ধৃত করে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জানায়, নিরাপত্তাজনিত কারণে তার দেশে ফেরার কথা গোপন রাখা হয়েছিল।
পাকিস্তানের নারী অধিকারকর্মী আদনান তাবাসসুম জানান, সোয়াতের শাংলা গ্রামে মালালা ফান্ডের সহায়তায় একটি স্কুল নির্মিত হয়েছে।
২০০৭ সালে পাকিস্তানের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকা সোয়াত তালেবানের পরিচালনাধীন ছিল। সেখানে মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞাসহ বেশ কিছু কট্টর শাসন জারি ছিল। ২০০৯ সালে এক সামরিক অভিযানে সোয়াত থেকে তালেবানকে বিতাড়িত করা হয়। কিন্তু তার তিন বছর পরই মালালার ওপর হামলা চালায় তালেবান। এ ঘটনার পর পার্বত্য অঞ্চলটিতে পর্যটকদের প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের পর সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
সোয়াতের বাসিন্দারা জানান, মালালার ঘটনার পর ওই এলাকার নারীদের জীবন পাল্টে গেছে। শাহিস্তা হাকিম নামের এক বাসিন্দা বলেন, ‘বাবা-মায়েরা তাদের মেয়েদেরকে স্কুলে পাঠাচ্ছে যেন মালালার উদ্দেশ্য সফল হয়। আমরা চাই মালালা সোয়াতেও আসুক।’








