ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের যে মন্ত্রীর বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রদায়িক উত্তেজনায় উসকানি সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে, সেই বাবুল সুপ্রিয় ভারতজুড়ে আলোচনায় থাকা আসানসোলের ইমাম মওলানা ইমদাদুল রশিদির সঙ্গে দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। শনিবার এক টুইটার পোস্টে তিনি সাম্প্রদায়িক সংঘাতে সন্তান হারানো ইমাম রশিদির প্রতি তার শ্রদ্ধাশীল অবস্থানের কথা জানান।
হিন্দু দেবতা রামের জন্ম বার্ষিকী উদযাপনের রাম নবমীর র্যালি থেকে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা শুরু হয়। গত রবিবার শুরু হওয়া এই দাঙ্গায় এখন পর্যন্ত ৫ জনের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে একজন আসানসোলের নূরি মসজিদের ইমাম মওলানা ইমদাদুল রশিদির কিশোর সন্তান। তবে পুত্রহারা ইমাম ডাক দিয়েছেন শান্তির। বলেছেন, ছেলে হত্যার প্রতিশোধের কথা চিন্তা করে মানুষ সহিংস হলে তিনি শহর ছেড়ে যাবেন।
আসানসোল থেকে নির্বাচিত ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির সংসদ সদস্য বাবুল সুপ্রিয় সাম্প্রদায়িক সংঘাতে উসকানি সৃষ্টি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। তবে এরইমধ্যে ভারতজুড়ে হিংসার বিপরীতে শান্তির পক্ষের প্রতীকী ব্যক্তিত্বে পরিণত হওয়া ইমাম রশিদির ভূমিকার প্রশংসা করেছেন তিনি। বাবুল লিখেছেন, ‘ইমাম সাহেব আপনাকে স্বাগত জানাই। আশা করি ভোটের রাজনীতির করছি এমন অভিযোগ বা বিচার ছাড়াই একদিন আপনার সঙ্গে দেখা করতে পারবো। যে যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে আপনার দিন কাটছে আমাদের কারও পক্ষেই তা অনুভব করা সম্ভব না, তবে কিন্তু আপনি যে মানসিক শক্তি দেখিয়েছেন তাতে উজ্জীবিত ও অনুপ্রাণিত বোধ করছি। সালাম।’
বাবুল সুপ্রিয়ের সঙ্গে ইমাম রশিদির তুলনামূলক অবস্থানকে উপজীব্য করে একটি বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সে দেশের সংবাদমাধ্যম ইনিউজরুম। ২৬ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাবুল সুপ্রিয় যেসব টুইট ও রিটুইট করেছেন তার সঙ্গে ওই ইমামের ভূমিকার তুলনা করে ওই সংবাদমাধ্যম দেখিয়েছে, কী করে অখ্যাত ওই ব্যক্তি তার কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে মন্ত্রীকে ছাড়িয়ে গেছেন। বাবুলের টুইটে মিলেছে দোষারোপের রাজনীতির আলামত। তবে ইমাম রশিদি আলোচনায় আসার পর বাবুল সুপ্রিয়ও নিজের অবস্থান পাল্টান। ‘চামড়া তুলে দেব’ লিখে করা এক টুইটার পোস্টের জন্য দুঃখপ্রকাশ করে তা প্রত্যাহার করে নেন তিনি।
২৬ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাবুল অনেকগুলো টুইট করেছেন। কিন্তু সেগুলোর কোনটিতেই শান্তি ও সম্প্রীতির আহ্বান নেই। ইনিউজরুম নামের ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, বাবুলের টুইট উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে ঘি ঢালছে। স্থানীয় প্রশাসন, দাঙ্গায় উসকানি ছড়ানোর অভিযোগে এই নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে।








