মিয়ানমারের ডি ফ্যাক্টো সরকারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি তার দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। দায়িত্বগ্রহণের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে রবিবার (১ এপ্রিল) টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে এ আহ্বান জানান তিনি। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, রোহিঙ্গা প্রশ্নে সোচ্চার ভূমিকার পালন না করার কারণে বরাবরই সমালোচনায় থাকা সু চি এবারও নিপীড়িত এ জনগোষ্ঠীর কথা উল্লেখ করেননি। কেবল ভাসা ভাসা করে রাখাইনে সংকট থাকার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি।
গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় ৭ লাখ মানুষ। মিয়ানমারের সরকারি বাহিনীর রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের ঘটনাকে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন ইতোমধ্যে ‘জাতিগত নির্মূলের পাঠ্যপুস্তকীয় দৃষ্টান্ত’ বলে আখ্যা দিয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব প্রশ্ন তুলেছেন, দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ দেশ ছাড়তে বাধ্য হলে তাকে ‘জাতিগত নিধনযজ্ঞ’ ছাড়া আর কী নামে ডাকা হবে। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণকে রোহিঙ্গা তাড়ানোর অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগও এনেছে জাতিসংঘ। কিন্তু তা সত্ত্বেও মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নিধনের বিরুদ্ধে সোচ্চার না হওয়ায় অনেকদিন ধরেই মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তোপের মুখে রয়েছেন সু চি। গণতন্ত্রপন্থী এবং সাহসী নারী হিসেবে সু চি’র পুরনো যে ভাবমূর্তি ছিল তা ক্ষুণ্ন হয়েছে। শান্তিতে নোবেলজয়ী এই নেত্রীকে দেওয়া কয়েকটি আন্তর্জাতিক সম্মাননাও ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। মিয়ানমার সরকারে দায়িত্বগ্রহণের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতেও একই ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে সুচিকে।
রবিবার টেলিভিশনে ভাষণ দেন সু চি। দক্ষিণ এশীয় দেশগুলো দেশের অভ্যন্তরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন সু চি। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। সু চি বলেন, ‘এ মুহূর্তে বিশ্বের দৃষ্টি রাখাইনের দিকে। কিন্তু আমাদেরকে শান্তিপূর্ণভাবে দেশের উন্নয়ন সাধন করতে হবে। আমরা যখন রাজনীতি, সমাজ ও অর্থনীতিতে সমৃদ্ধি আনার জন্য সংগ্রাম করছি তখন দেশের অব্যন্তর ও বাইরে থেকে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছি আমরা।
রয়টার্স জানায়, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচ্ছে ও লক্ষ্যের প্রতিও সম্মান প্রদর্শনের জন্য’ জনগণকে আহ্বান জানিয়েছেন সু চি। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত উল্লেখ করেননি তিনি।
মিয়ানমারে জাতিগত বিদ্রোহী ও সেনাবাহিনীর মধ্যে কয়েক দশক ধরে চলা লড়াইয়ের অবসানকে সু চি তার এক নম্বর প্রাধান্যের বিষয় বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা আমাদের দেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। আমাদের প্রয়োজন একতার শক্তি।’
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে মিযানমারের দুটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী সরকারের সঙ্গে অস্ত্রবিরতিতে স্বাক্ষর করেছে।








