মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীর শরণার্থীদের কানাডায় আশ্রয় দেওয়ার সুপারিশ করেছেন রোহিঙ্গা সংকটে প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর নিয়োগকৃত বিশেষ দূত বব রে। একইসঙ্গে তিনি চলমান মানবিক সংকটের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারির সুপারিশ করেছেন। কানাডাভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম সিটিভি জানিয়েছে, অল্প কয়েক ঘণ্টা পর প্রকাশ হতে যাওয়া (৩ মার্চ মঙ্গলবার) এক প্রতিবেদনে তিনি এসব সুপারিশ করেছেন।
গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। অক্টোবরে টরেন্টোর সাবেক এমপি বব রে-কে মিয়ানমারের বিশেষ দূত নিয়োগ দেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। তদন্ত শেষে সংকট নিয়ে তিনি এরইমধ্যে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছেন। প্রতিবেদনটি দেখেছেন এমন কয়েকটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে সিটিভি বলছে, বিশেষ দূতের এই প্রতিবেদনে মিয়ানমারে মানবতাবিরোধী অপরাধের ‘শক্তিশালী ইঙ্গিত’ দেওয়া হবে।
গত ডিসেম্বরে অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনে বব রে লিখেছেন, বাংলাদেশে বর্তমানে কী ধরনের মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। সরাসরি গুলি ও সামরিক সহিংসতা ছাড়াও আমি যৌন সহিংসতার শিকার নারীদের কাছ থেকে প্রত্যক্ষভাবে নির্যাতনের বর্ণনা শুনেছি। শরণার্থী শিবিরে আসার পথে শিশু ও বৃদ্ধদের মৃত্যুর কথাও শুনেছি। প্রথমদিকে রোহিঙ্গাদের মানবিক সংকট দেখার জন্য তাকে রাখাইন রাজ্যে প্রবেশ করতে দেওয়া না হলেও গত ফেব্রুয়ারিতে তিনি সেখানে যান।
সিটিভির প্রতিবেদন বলছে, বব রে’র চূড়ান্ত প্রতিবেদনে কানাডাকে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্বাগত জানানোর আগ্রহ প্রকাশের ঘোষণা দেওয়ার সুপারিশ করা হবে। তবে সূত্রমতে, এমন পুনর্বাসন প্রক্রিয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকটের সমাধান আনবে না। এতে সহিংসভাবে বিতাড়িত লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে মাতৃভূমিতে ফেরানোর ব্যাপারে মিয়ানমার সরকারের দায়িত্ব কমাবে না।
বব রে তার প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গকারী ব্যক্তি, সংগঠন ও কোম্পানির বিরুদ্ধে কানাডা ও এর মিত্র দেশগুলোকে সুর্নিদিষ্ট অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুপারিশ করবেন বলে আভাস দেওয়া হয়েছে সিটিভির প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনটির সঙ্গে পরিচিতরা বলেছেন, বব রে মনে করেন মিয়ানমার ও বাংলাদেশে চলমান সংকটে কানাডার উদ্যোগ দেশটির পররাষ্ট্রনীতির জন্য একটি লিটমাস টেস্ট বা অগ্নিপরীক্ষা। সংকট নিরসনে চলতি মাসে লন্ডনে অনুষ্ঠিতব্য কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের বৈঠকে আলোচনা তোলার তাগিদ দিয়েছেন তিনি। মে মাসে কানাডায় অনুষ্ঠিতব্য জি-সেভেন সম্মেলনেও রোহিঙ্গা সংকটকে প্রাধান্য দেওয়ার সুপারিশ করেছেন রে।
মিয়ানমার সরকার দেশটি থেকে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীর মানুষদের পুনর্বাসনের আগ্রহের বিষয়টি প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু মিয়ানমার নিরাপত্তা বাহিনী ও বৌদ্ধভিক্ষুদের হাতে বছরের পর বছর ধরে কৌশলগত সহিংসতার শিকার রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মনে এমন পরিকল্পনা নিয়ে ব্যাপক সংশয় রয়েছে।
এসব শরণার্থীর অনেকে বর্তমানে অনেক কষ্টে বাংলাদেশের ক্যাম্পগুলোতে বাস করছেন। আগামী মে মাসে শুরু হতে যাওয়া বর্ষা মৌসুমে ভারি বৃষ্টি ও অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন সুবিধার অভাবে পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার হুমকি রয়েছে। কানাডার সরকার এই অঞ্চলে মানবিক সহায়তার জন্য ৩ কোটি ৭৫ লাখ ডলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কানাডা। এরপর বর্ষাকালে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরগুলোতে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য গত ১৬ মার্চ আরও ৮১ লাখ ৫০ হাজার ডলার তহবিল জোগানের ঘোষণা দিয়েছে কানাডার সরকার।








