দ্য শিডিউলডকাস্ট অ্যান্ড দ্য শিডিউলড ট্রাইবস প্রিভেনশন অব অ্যাট্রোসিটিজ অ্যাক্ট (তফশিলি জাতি-উপজাতি সংরক্ষণ আইন) শিথিলের রায়ে স্থগিতাদেশ দিতে রাজি নয় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। তবে দশদিন পর শুনানি করতে এবং রায়টি পুনর্বিবেচনা করতে রাজি হয়েছে তারা। এর জন্য সব পক্ষকে দুই দিনের মধ্যে লিখিত বক্তব্য জমা দিতে বলা হয়েছে।
গত ২০ মার্চ ভারতের সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বলা হয়, সরকারি কর্মীদের বিরুদ্ধে তফশিলি জাতি ও উপজাতিদের উপর অত্যাচার বন্ধের আইনের যথেচ্ছ অপব্যবহার করা হচ্ছে। তাই এখন থেকে আর নিয়োগ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া এই আইনে কোনও সরকারি কর্মীকে গ্রেফতার করা যাবে না। তফশিলি জাতি–উপজাতির উপর অত্যাচারের কোনও মামলা দায়ের করার আগে সেই ঘটনা ডিএসপি পর্যায়ের কোনও কর্মকর্তাকে দিয়ে তদন্ত করাতে হবে। এছাড়া এই ঘটনায় অভিযুক্ত কোনও সরকারি কর্মকর্তাকে গ্রেফতারের আগে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। শীর্ষ আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে ২ এপ্রিল দলিত সংগঠনগুলোর ডাকা ভারত বনধ কর্মসূচি ডাক সহিংসতায় রূপ নেয়। এদিন বিভিন্ন রাজ্যে পুলিশের সঙ্গে দলিতদের সংঘর্ষে ৯ জন নিহত হয়। এদিনই আবার কেন্দ্রীয় সরকার রায়টির বিরুদ্ধে রিভিউ পিটিশন পেশ করে ২০ মার্চের নির্দেশ খতিয়ে দেখার আবেদন জানায়।
মঙ্গলবার (৩ এপ্রিল) বিচারপতি এ কে গোয়েল ও বিচারপতি ইউ ইউ ললিতকে নিয়ে গঠিত সর্বোচ্চ আদালতের বেঞ্চ জানিয়ে দেয় রায়টিতে স্থগিতাদেশ দেওয়া হবে না। তবে বেঞ্চ কেন্দ্রের রিভিউ পিটিশনটি বিস্তারিত শুনতে রাজি হয়েছে, ১০ পর শুনানির জন্য সেটি তালিকাভুক্তও করেছে। দুইদিনের মধ্যে লিখিত বক্তব্য পেশ করতে বলেছে মহারাষ্ট্র সরকার ও অন্যদের। সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ মনে করছে, তফসিলি জাতি ও উপজাতি নির্যাতন রোধ আইনের কোনও বিধি, ধারা লঘু করা হয়নি, শুধু নিরীহ, নিরপরাধ লোকজনের অহেতুক হেনস্থা ঠেকানো, তাদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। এই আইনের কোনও ধারা নির্দোষ ব্যক্তিকে ভয় দেখাতে প্রয়োগ করা যাবে না বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রের রিভিউ পিটিশনে বলা হয়েছে, শীর্ষ আদালতের ২০ মার্চের রায়ের প্রভাব প্রতিক্রিয়া হবে ব্যাপক এবং তা প্রয়োগ করা হলে ১৯৮৯ সালের আইনটির কঠোর বিধি, ধারাগুলি শিথিল ও দুর্বল হয়ে যাবে। এতে ভারতের জনসংখ্যার এক বড় অংশের মানুষ, যারা তফসিলি জাতি, উপজাতি, দলিত সম্প্রদায়ভুক্ত, ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।








