সাম্প্রদায়িক ঘৃণার আগুনে পুড়ে যাওয়া আসানসোলের একটি মাজার সংস্কারে এগিয়ে এসেছে সেখানকার কালি মন্দির কমিটি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, মাজারের বাইরে ব্যানার টানিয়ে সংস্কারকাজে অর্থায়নের কথা জানিয়েছে ওই কমিটি। এছাড়া হিংসার আগুনে বাড়ি হারানো দুই মুসলিমের বাড়ি সংস্কারের জন্য অর্থ সাহায্য দিয়েছেন তারা। মন্দির কমিটি বলছে, ভবিষ্যতে ঘৃণার বিষে ধ্বংস এড়াতেই তাদের এসব পদক্ষেপ।
হিন্দু দেবতার রামের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গত ২৫ মার্চ আয়োজিত রাম নবমীর র্যালি থেকে আসানসোল ও পুরুলিয়া এলাকায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার বিষ ছড়ায়। এই উত্তেজনার মধ্যেই ২৭ মার্চ নিখোঁজ হন আসানসোলের নুরানি মসজিদের ইমাম রশিদির ১৬ বছর বয়সী পুত্র এসএসসি পরীক্ষার্থী সিবতুল্লাহ রশিদি। একদিন পর তার মরদেহের সন্ধান মেলে। তবে পুত্রশোকেও ধৈর্য হারাননি এই ইমাম। গত সপ্তাহে এক সমাবেশে তিনি প্রতিশোধমূলক হামলা থেকে নিবৃত্ত থাকতে স্থানীয় মুসলমানদের প্রতি আহ্বান জানান। নিরপরাধ মানুষ হয়রানির শিকার হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে পুলিশের কাছেও তিনি সন্দেহভাজনের নাম প্রকাশ করেননি।
ইমাম রশিদি’র পুত্র সিবতুল্লাহ রশিদি নিখোঁজের একদিনের মাথায় ২৮ মার্চ সকালে রেলপাড়ের ডিপোট পাড়া এলাকায় স্থানীয়রা সেখানকার মাজারটি ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় দেখতে পান। এর আগের দিনও সেখানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
দখিনা কালি মন্দিরের একজন ট্রাস্টি ৫৫ বছরের মলয় মজুমদার। হিন্দুস্তান টাইমস’কে তিনি বলেন, ‘আমরা এই এলাকার পুরনো বাসিন্দা। এ ধরনের একটি ঘটনা আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। মাজার এলাকা অতিক্রমের সময় আমাদের কেউ কেউ সেটির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করি। এটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে আমরা মাজারটি মেরামতের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘এই ব্যানার মুসলমানদের মাজারের সঙ্গে মন্দির কমিটির সহযোগিতার বার্তা দিচ্ছে। এটি ভবিষ্যতে ভাঙচুরকে নিবৃত্ত করবে।’
মলয় মজুমদার বলেন, ‘এই কমিটি দুইটি মুসলিম পরিবারের সদস্যদেরও সামান্য আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। ২৭ মার্চের হামলায় তাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।’
স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্য ওসমান গনি বলেন, কালি মন্দির কমিটির উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানিয়েছি। দীর্ঘদিন ধরে আমরা এখানে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করছি।’
এদিকে রাম নবমীর র্যালি থেকে ছড়ানো সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার প্রেক্ষিতে প্রশাসনের জারি করা ১৪৪ ধারা তুলে নেওয়ার পর সোমবার বিকেলে আসানসোলের কয়েক হাজার বাসিন্দা এক শান্তিপূর্ণ র্যালির আয়োজন করেন।
এদিকে প্রায় একই রকমের ভিন্ন এক ঘটনা ঘটেছে পুরুলিয়া শহরে। সেখানে মোহাম্মদ পাপ্পু নামের একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নিজের জমানো অর্থে একটি হনুমান মন্দিরের সংস্কার করেছেন। সংস্কার কাজের পর গত ৩১ মার্চ হনুমান জয়ন্তীর দিনে নতুন করে মন্দিরটি উদ্বোধন করা হয়।
পারুলিয়া জেলায় সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক সহিংসতার শুরু গত ২৫ মার্চ। ওইদিন জেলার বেলাদি গ্রামে শেখ সাজাহান নামের ৫০ বছরের এক ব্যক্তি নিহত হন। রাম নবমীর একটি মিছিল মসজিদ এলাকা অতিক্রমের সময় সংঘাতের মধ্যে পড়ে তিনি নিহত হন।








