পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনা করতে উত্তর কোরিয়া প্রস্তুত রয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এক মার্কিন কর্মকর্তার দাবিকে উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের মধ্যে বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হবে। এর আগে, দক্ষিণ কোরিয়ার মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনার ব্যাপারে পরোক্ষভাবে সম্মতি জানালেও ওয়াশিংটনের দাবি, এবার দেশটি সরাসরি তাদের কাছে সম্মতি জানিয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কিম জং উনের মধ্যে বৈঠক আয়োজনের জন্য বিভিন্ন প্রস্তুতি চলছে। এর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার কর্মকর্তাদের মধ্যে কখনও সরাসরি আবার কখনও গোপন বৈঠক হচ্ছে। রবিবার (৮ এপ্রিল) নাম প্রকাশ না করে এক মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে হওয়া এক গোপন বৈঠকে পিয়ংইয়ং সরাসরি এ নজিরবিহীন বৈঠকে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে। ওই কর্মকর্তা বলেন, যোগাযোগ এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের কর্মকর্তারা উত্তর কোরিয়ার কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। এতোদিন উত্তর কোরিয়ার মতামত জানার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ কোরিয়ার উপরই নির্ভর করছিলো। উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক নিরস্ত্রীরণ নিয়ে আলোচনায় রাজি আছে বলে আগেই যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। এইবার পিয়ংইয়ং এর পক্ষ থেকে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে আশ্বস্ত করা হলো।
যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তৃতীয় একটি দেশে অনেকবার মিলিত হয়েছেন এবং কথা বলেছেন। মে মাসে এ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। যদি তা সত্যি হয় তবে, এটাই হবে কোনও ক্ষমতাসীন মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার নেতার প্রথম সাক্ষাৎ।
ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম বছরেই কিম যুক্তরাষ্ট্রে আঘাতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার পরীক্ষা করেন। পিয়ংইয়ং দাবি করে, তারা হাইড্রোজেন বোমা তৈরি করেছে। এরপরই কিম বিশ্বকে অবাক করে দিয়ে দক্ষিণের সঙ্গে আলোচনায় রাজি হন এবং পরে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তাব দেন। ট্রাম্প বারবার পিয়ংইয়ংয়ের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের নীতির কথা বলে আসছেন। কিন্তু চীন উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। চীনই এখনও উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়নি।
অন্যদিকে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে ওয়াশিংটনের সংজ্ঞার সঙ্গে পিয়ংইয়ং একমত কিনা সেটি এখনও স্পষ্ট নয়। উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ চায় ওয়াশিংটন। এর আগে আলোচনার সময় ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু পরীক্ষা বন্ধ রেখেছিল উত্তর কোরিয়া। যদিও অধৈর্য হয়ে বা দাবি আদায় হবে না এমন পরিপ্রেক্ষিতে আবার পরমাণু কর্মসূচি শুরু করে পিয়ংইয়ং।








