মানব পাচার ঠেকাতে যথেষ্ঠ ব্যবস্থা নিতে না পারলে এ বছর পাকিস্তানের বেসামরিক খাতে মার্কিন সহায়তার পরিমাণ কয়েক কোটি ডলার কমিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সংশ্লিষ্ট মার্কিন সূত্রকে উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স খবরটি জানিয়েছে।এ পদক্ষেপ ওয়াশিংটন-ইসলামাবাদের মধ্যে চলা উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে পাকিস্তানের দাবি, মানব পাচার রোধে তারা কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।
এ বছরের শুরুতে টুইটার বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও সন্ত্রাসবাদে মদদের অভিযোগ তোলার পর ৫ জানুয়ারি মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর থেকে নিরাপত্তা সহায়তা বন্ধের ঘোষণা আসে। প্রায় ২০০ কোটি ডলার পর্যন্ত সহায়তা স্থগিতের আভাস দেওয়া হয়। তাছাড়া ইসলামাবাদকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের আক্রমণাত্মক মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় জাতিসংঘে পাকিস্তানের দূত মালিহা লোধি পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের মর্ম বুঝতে না পারলে দেশটির সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে পাকিস্তান। উত্তেজনা প্রশমনে পরে যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে বলা হয়েছিল, নিরাপত্তা সহায়তা স্থগিতের পরও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হয়নি দেশটির। প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস দাবি করেছিলেন,একসঙ্গেই কাজ করছে দুই দেশ। পাকিস্তান মার্কিন সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াইয়ের নীতির পক্ষে ভূমিকা নিলেই স্থগিতকৃত সহায়তা আবারও চালু করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রকে উদ্ধৃত করে বৃহস্পতিবার (১২ এপ্রিল) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানকে এবার বেসামরিক খাতে সহায়তা বন্ধের হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইসলামাবাদে মার্কিন দূতাবাসের এক কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানায়, ২০১৭ সালে বেসামরিক খাতে সহায়তা বাবদ পাকিস্তানকে সাড়ে ২৬ কোটি ডলার দিয়েছিল ওয়াশিংটন। কিন্তু শীর্ষ মানব পাচারের দেশের তালিকায় যদি পাকিস্তানের নাম ঠাঁই পায় তবে, ওই সহায়তার একটা বড় অংশ এ বছর কাটছাঁট করে ফেলা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে। জুনে ওই বার্ষিক প্রতিবেদনটি প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, এখনও র্যাংকিংয়ের কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে পাকিস্তানকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, মার্কিন সহায়তা বন্ধের পদক্ষেপ ঠেকাতে চাইলে যেন দেশটির নাম নিম্ন র্যাংকিংয়ে না থাকে।’
এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর। কেবল বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের মানব পাচারবিরোধী আইন অনুযায়ী জরিমানা করা যায়।
ফেডারেল আইন অনুযায়ী, মানব পাচারের ক্ষেত্রে বাজে অবস্থায় থাকা যেকোনও দেশে অবরোধ আরোপ করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প চাইলে আংশিক বা পুরোপুরিভাবে ছাড় দিতে পারেন। গত বছর নিষিদ্ধ তালিকায় থাকা বেশিরভাগ দেশের ক্ষেত্রেই তিনি ছাড় দিয়েছেন। তার পূর্বসূরীরাও মিত্রতা বজায় রাখতে একই কাজ করেছিলেন।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আহসান ইকবাল রয়টার্সের কাছে দাবি করেন, তার দেশ মানব পাচার রোধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশগুলোকে চাপ দিতে এ ইস্যুকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
মানব পাচার রোধে শিগগিরই পাকিস্তানে কঠোর আইন প্রণয়ন করা হবে বলে জানান আহসান ইকবাল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সহায়তা বন্ধের হুমকি পেয়েছেন কিনা তা নিশ্চিত করেননি তিনি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বেসামরিক খাতে যুক্তরাষ্ট্রের এ সহায়তা পাকিস্তানের অর্থনীতির জন্য বিপুল আকারের সহযোগিতা বলে বিবেচিত হয়। আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল এবং বিশ্ব ব্যাংকের মতো আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে পাকিস্তানের সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র যদি বিরোধিতা করার সিদ্ধান্ত নেয় তবে তা হবে ইসলামাবাদের জন্য বড় ধাক্কা।








