ঐতিহাসিক বৈঠক শুরুর আগে দুই কোরীয় নেতা ফলপ্রসূ আলোচনার মধ্য দিয়ে নতুন অধ্যায় রচনার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। কিম জং উন দক্ষিণ কোরিয়ায় পা রাখার পর বৈঠককে ঘিরে নিজেদের আশাবাদের কথা জানান দুই নেতা। সাংবাদিকদের উদ্দেশে কিম ফলপ্রসূ আলোচনার মধ্য দিয়ে নতুন অধ্যায় রচনার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। বিপরীতে মুন কিমের সফরকে সামরিক ভেদরেখায় শান্তির বার্তা আখ্যা দিয়েছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন থেকে এ কথা জানা গেছে।
কোরীয় যুদ্ধ অবসানের ৬৫ বছর পর এবারই প্রথম কোনও উত্তর কোরীয় রাষ্ট্রনায়ক আলোচনার জন্য দক্ষিণ কোরিয়ায় গেলেন। স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে নয়টায় দুই কোরিয়ার নেতা সীমান্তে উপস্থিত হয়ে হাত মেলান। দক্ষিণ কোরিয়ায় কিম জং উন পা রাখার পর দুই নেতা সাংবাদিকদের উদ্দেশে হাত নাড়েন। সে সময় কিম সাংবাদিকদের বলেন, তিনি বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করতে চান। তিনি আশা করেন এই বৈঠক থেকে ফলপ্রসূ কিছু বেরিয়ে আসবে। কিম বলেরন, ‘আমি আশা করছি আমাদের মধ্যে নতুন এক অধ্যায় রচিত হবে। এখানেই এর শুরু। এই মুহূর্তের জন্য আমাদের ১১ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। ভেবে অবাক হচ্ছি যে কেন এত সময় লাগলো।’
এর আগে দুই কোরিয়ার নেতারা দুইবার আলোচনায় বসলেও দুইবারই সেই আয়োজন হয়েছিল পিয়ংইয়ং এ। এবারের বৈঠকের পুরো পরিকল্পনা আগে থেকেই তৈরি করা হয়েছে। উত্তর কোরিয়ার নেতা বলেন, ‘আজকের বৈঠকের পর আবারও পূর্বের অবস্থায় ফিরতে চাই না আমরা। যেখানে একমত হবো, সেটা বাস্তবায়নও হবে।’ সবাই এই বৈঠককে ঘিরে যতটা প্রত্যাশা করে আছেন সেটা পূরণের চেষ্টা থাকবে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে নয়টায় দুই কোরিয়ার নেতা সীমান্তে উপস্থিত হয়ে হাত মেলান। দক্ষিণ কোরিয়ায় কিম জং উন পা রাখার পর দুই নেতা সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে হাত নাড়েন। এরপরই কিমের অনুরোধে উত্তর কোরিয়ার মাটিতে কিছুক্ষণের জন্য দাঁড়ান দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইন। পরে তারা অনুষ্ঠান মঞ্চে হাজির হন। মুন জায়ে ইন বলেন, কোরীয় উপদ্বীপে যে বসন্ত চলছে আমি আশা করি সেই বাতাস পুরো বিশ্বেই বইছে। আমাদের কাঁধে অনেক বড় দায়িত্ব। বিশ্ববাসী অনেক কিছু আশা করে আছে।’
দক্ষিণ কোরীয় প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, `আপনার সফর সামরিক সীমারেখাকে শান্তির প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে, বিভাজন নয়।’ এই বৈঠকে অংশ নেওয়ায় কিমকে ধন্যবাদ জানান মুন। তিন বলেন, বছরের পর বছর চেষ্টা করেও আমরা পারছিলাম না। অবশেষে আমরা কাঙ্খিত বৈঠকে বসতে পারলাম। আপনার সাহস ও আস্থার জন্য ধন্যবাদ।’
উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সকালের বৈঠক শেষ হয়েছে। শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ায় বহু কাঙ্খিত বৈঠকে বসেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইন ও উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উন। এখন দুজনই পৃথকভাবে মধ্যাহ্ন ভোজ করছেন। ১৯৫৩ সালে কোরীয় যুদ্ধ অবসানের ৬৫ বছর পর এবারই প্রথম কোনও উত্তর কোরীয় রাষ্ট্রনায়ক আলোচনার জন্য দক্ষিণ কোরিয়ায় পৌঁছালেন। এর আগে দুই কোরিয়ার নেতারা দুইবার আলোচনায় বসলেও দুইবারই সেই আয়োজন হয়েছিল পিয়ংইয়ং এ। এবারের বৈঠকের পুরো পরিকল্পনা আগে থেকেই তৈরি করা হয়েছে।
আনুষ্ঠানিতকা শেষে সকাল সাড়ে দশটায় শুরু হওয়া আলোচনা চলে মধ্যাহ্নভোজনের বিরতির আগ পর্যন্ত। বিরতিতে দুই নেতা নিজেদের দেশে ফিরে যাবেন। নিজ দেশে মধ্যাহ্নভোজনের পর বিকেলেই দুই নেতা দুই কোরিয়ার মাটি ও পানি ব্যবহার করে একটি পাইন গাছের চারা রোপণ করবেন। শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে এই চারা লাগানোর পর দ্বিতীয় দফা আলোচনায় বসবেন দুই নেতা। সম্ভাব্য চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে শেষ হবে আলোচনা। এরপর দুই নেতা দক্ষিণ কোরিয়ায় রাতের খাবারে অংশ নেওয়ার আগে একটি যৌথ বিবৃতি দেবেন।








