আফগানিস্তানের কাবুলে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রধান আলোকচিত্রী শাহ মারাই সোমবার একটি বোমা হামলার ছবি তুলে গিয়ে আত্মঘাতী হামলায় নিহত হয়েছেন। বার্তা সংস্থাটি শাহ মারাইকে শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আফগানিস্তানের দীর্ঘ সংঘাতের সময় তিনি ছিলেন ক্যাশিমাটিক, সাহসী ও নিবেদিত সাংবাদিক।

নিহত শাহ মারাইয়ের দুই স্ত্রী ও ছয় সন্তান রয়েছে। তাদের মধ্যে একমাত্র মেয়ের জন্ম হয়েছে এই মাসের শুরুতে।
সোমবারের হামলায় মারাইসহ ৯ সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। মোট নিহতের সংখ্যা ২৯ বলে জানিয়েছে আফগান কর্তৃপক্ষ।
এএফপি জানিয়েছে, শাহ মারাই তালেবানের হাতে পিটুনি ও হুমকি পেয়েছিলেন। সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে বেশ কয়েকবার ব্যক্তিগত ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ২০১৪ সালে এএফপির সিনিয়র রিপোর্টার ও বন্ধু সরদার আহমদকে স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ হত্যা করেছিল তালেবানরা।
বার্তা সংস্থাটির গ্লোবাল নিউজ ডিরেক্টর মিশেল লেরিদোঁ বলেন, এটা বড় ধরনের বিপর্যয়। শুধু কাবুল ব্যুরো নয়, পুরো সংস্থার জন্যই। শাহ মারাই ছিলেন আমাদের গুরুত্বপূর্ণ সহকর্মী। যিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানের ছবি তুলছিলেন ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে।
সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই শ্রদ্ধা ও শোক জানাচ্ছেন শাহ মারাইয়ের প্রতি। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিনিধি লিখেছেন, আমাদের বন্ধু শাহ মারাই কাবুলে সকালে বিস্ফোরণে মারা গেছেন। তিনি গত দুই দশকের মতো আজও নিজের কাজ করছিলেন।
১৯৯০ এর দশকে আফগানিস্তানে তালেবান শাসনের সময় গাড়িচালক হিসেবে এএফপিতে যোগ দেন শাহ মারাই। বিশ্ব আর ছবির প্রতি তার বিপুল ভালোবাসা প্রত্যক্ষ করে এএফপি তাকে আলোকচিত্রের ওপর প্রশিক্ষণের জন্য তাকে ফ্রান্সে পাঠায়।
বিবিসির আফগান প্রতিনিধি মাহফুজ জুবায়দি তার স্মরণে লিখেছেন, আফগানিস্তানে ফিরে এসে কাবুলের ভয়াবহ সব হামলার ঘটনার মানবিক মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করতে শুরু করেন।
তার বিখ্যাত এক আলোকচিত্রের মধ্যে রয়েছে গত বছর কাবুলের শিয়া মসজিদে হামলার সময়ে তোলা চার বছর বয়সের একটি শিশুর ছবি। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা ওই শিশুকে বারবার বের হয়ে আসার তাগাদা দিলেও ভিতরে থাকা বাবাকে খুঁজে ফিরছে সে।
মাহফুজ জুবায়দি লিখেছেন, বরাবরই মারাই ছিলেন শান্ত, হাস্যোজ্জ্বল আর ইতিবাচক। বিপদে তিনি কখনোই ভয় পেতেন না। তবে কয়েক বছর আগে কাবুলের সেরেনা হোটেলে আরেক সন্ত্রাসী হামলায় তার বন্ধু সরদার আহমাদ নিহত হলে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি।
মাহফুজ লিখেছেন, ছোটবেলা থেকেই শাহ মারাইকে চিনতাম। দুজনেই কাবুলে মিডিয়াতে কাজ করছি। প্রায়ই ভয়াবহ আক্রান্ত স্থানগুলোতে আমাদের দেখা হয়ে যেত।
১৯৯৬ সালে এএফপিতে গাড়ি চালক হিসেবে যোগ দেন মারাই। ওই বছরই তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে। দুই বছর ধরে তিনি ছবি তুলছিলেন। কিন্তু একেবারে আলোকচিত্রী হয়ে ওঠেন ২০০২ সালে। ২০০২ সালে কাবুল থেকে একাই স্যাটেলাইট ফোনে এএফপি’র ইসলামাবাদ ব্যুরোর কাছে খবর পাঠান এবং ছবি তোলেন সংঘাতের।
২০১৬ সালে এএফপি’র ব্লগে একটি লেখায় মারাই লিখেছিলেন, তারা (তালেবান) সাংবাদিকদের ঘৃণা করে। ওই সময় খুব কমই আমি ছবিতে নিজের নাম ব্যবহার করতাম। আমি তাতে শুধু ছদ্মনাম স্বাক্ষর করতাম। অপ্রয়োজনীয় দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইতাম না।








