রাশিয়ার সঙ্গে অব্যাহতভাবে উত্তেজনা বাড়তে থাকার প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র তার বন্ধ থাকা সেকেন্ড ফ্লিট আবার চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর পাশাপাশি ভার্জিনিয়ার নরফোকে নতুন নৌসেনা ঘাঁটি প্রতিষ্ঠারও কার্যক্রমও হাতে নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ন্যাটোকে শক্তিশালী করে তোলার মাধ্যমে রাশিয়ার আধিপত্য ঠেকাতে আটলান্টিক মহাসাগরে নতুন করে সামরিকায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পেন্টাগন।
ন্যাটোর মুখপাত্র জনি মাইকেল বলেছেন, ‘ক্ষমতার লড়াইয়ের ফিরে আসা ও রাশিয়ার পুনরুত্থানের কারণে ন্যাটো আবার আটলান্টিকের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করতে চায়, যাতে ওই এলাকায় সামরিক সহায়তা পৌঁছানোর মতো পরিস্থিতি বজায় থাকে এবং যে কোনও হামলার বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা চালানোর সাধ্য কার্যকরভাবে দৃশ্যমান থাকে।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘আটলান্টিকের উভয় তীরের নিরাপত্তা নিশ্চিতে মূল ভূমিকা পালন করতে হবে ন্যাটোকে।’
রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কার্যকর সামরিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে গত ফেব্রুয়ারিতেই সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওই সময়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সমুদ্র পথ নিরাপদ রাখার জন্য নতুন প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার খসড়া অনুমোদন করেছিলেন। ন্যাটোর মহাসচিব জেন্স স্টলটেনবার্গ তখন জানিয়েছিলেন, “আমরা যথেষ্ট বেশি আক্রমণাত্মক রাশিয়াকে দেখছি, যা বছরের পর বছর ধরে সামরিক সক্ষমতা ও সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে বিনিয়োগ করেছে। এর মধ্যে যেমন রয়েছে নিয়মিত বাহিনী, তেমনি রয়েছে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারে সক্ষম বাহিনী।
কাছাকাছি সময়েই যুক্তরাষ্ট্র তার সেকেন্ড ফ্লিটকে আবার সংগঠিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খরচ কমাবার জন্য সেকেন্ড ফ্লিটকে ২০১১ সালে ‘ফ্লিট ফোর্সেস কমান্ডে’ আত্মীকরণ করা হয়েছিল। আবার চালু করলে সেকেন্ড ফ্লিটের দায়িত্ব হবে পূর্ব উপকূল ও উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে যুদ্ধ জাহাজ, যুদ্ধ বিমান ও পদাতিক বাহিনীর কার্যক্রম সমন্বয় করা। তাছাড়া সেকেন্ড ফ্লিট প্রশিক্ষণ দান ও সাগরে অভিযান চালানোর জন্যও প্রস্তুত থাকবে।








