তুরস্কের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রি স্থগিত সংক্রান্ত প্রস্তাবিত আইন প্রণয়ন করা হলে যুক্তরাষ্ট্রকে সমুচিত জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছে আঙ্কারা। রবিবার সিএনএন তার্ক’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
এর আগে গত শুক্রবার ৭১৭ বিলিয়ন ডলারের বার্ষিক প্রতিরক্ষা নীতি বিল প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিনিধি পরিষদ। ওই বিলে তুরস্কের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রি সাময়িকভাবে স্থগিতের কথা বলা হয়।
রবিবার সিএনএন তার্ক’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কাভুসোগলু বলেন, বিলটিতে থাকা এসব পদক্ষেপ ভুল ও অযৌক্তিক। ন্যাটো মিত্রদের মধ্যে এমনটা শোভনীয় নয়।
মেভলুত কাভুসোগলু বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে তাহলে তুরস্ক অবশ্যই এর সমুচিত জবাব দেবে। এক্ষেত্রে যা করা দরকার তাই করা হবে।
এর আগে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানও অস্ত্র বিক্রি ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, আমেরিকা আমাদের কাছে অস্ত্র বিক্রি করছে না; অথচ তারা কুর্দি সন্ত্রাসীদের কাছে বিনামূল্যে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করছে।
আগামী ২৪ জুন তুরস্কে আগাম নির্বাচনের ঘোষণার মধ্যেই দেশটিতে মার্কিন অস্ত্র রফতানি নিয়ে এ সংশয় তৈরি হলো। পশ্চিমা দুনিয়ার কাছে এরদোয়ান একজন কর্তৃত্ববাদী শাসক। সমালোচকরা বলছেন, এরদোয়ান আসলে অটোমান সাম্রাজ্য বা উসমানিয়া খিলাফতের পুনঃপ্রবর্তন চান। তার শাসনামলে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় তুরস্কের জাহাজভর্তি ত্রাণসামগ্রী পাঠানো, মিসরে সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মুসলিম ব্রাদারহুডের কাছ থেকে ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার কঠোর সমালোচনা, মার্কিন ব্লকের বাইরে রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানো এবং সিরিয়ায় কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনার মতো বিভিন্ন ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা, সমীকরণের জন্ম দেয়। তবে নিজ সমর্থকদের কাছে তিনি হচ্ছেন সেই কাঙ্ক্ষিত নেতা, যার হাত ধরে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির নতুন দিগন্তে যাত্রা করেছে তুরস্ক। সূত্র: রয়টার্স, গালফ টাইমস।








