ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)। ৫৭ জাতির এ জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র অন্যায়ভাবে জেরুজালেমে দূতাবাস স্থানান্তর করেছে। এটি আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশটি জেরুজালেম ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অবস্থানের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে; যা হতাশাজনক। ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ফোরামের (সিএফএম) বর্তমান সভাপতি হিসেবে জোটের পক্ষে সোমবার রাতে বাংলাদেশের দেওয়া বিবৃতিতে সংস্থাটির এমন অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানানোর পাশাপাশি তা প্রত্যাখান করেছে মুসলিম দেশগুলোর এ জোট। বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত ফিলিস্তিনিদের ঐতিহাসিক, আইনসম্মত ও সহজাত অধিকারের ওপর আঘাত। এটি জাতিসংঘের অবস্থান, আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তি এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রতিফলিত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মতামতের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এর মধ্য দিয়ে প্রকাশ্যে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে এটা স্পষ্ট যে, মুসলিম উম্মাহর অধিকার এবং ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি দেশটির বর্তমান প্রশাসনের কোনও শ্রদ্ধাবোধ নেই। এর ফলে ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তাদের কোনও কার্যকর ভূমিকা থাকবে না। তবে ওআইসি দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রচেষ্টা এবং ফিলিস্তিনি জনগণের আত্ম-নিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং তাদের স্বতন্ত্র রাষ্ট্র গঠনের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখবে।
এদিকে সোমবার জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থাপনের দিনে ইসরায়েলি হত্যাযজ্ঞের শিকার হওয়া ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৫০ ছাড়িয়েছে। সুদূর লক্ষ্যভেদী অত্যাধুনিক ইসরায়েলি স্নাইপারে (বিশেষ ধারার বন্দুক, যা দিয়ে অনেক দূরের লক্ষ্যবস্তুকে নির্ভুল নিশানা বানানো যায়) অন্তত ৫২ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থাপনকে কেন্দ্র করে সোমবার আরও জোরালো হয় ভূমি দিবসের চলমান বিক্ষোভ কর্মসূচি। জাতিগত মুক্তির লড়াইয়ে অর্ধশতাধিক ফিলিস্তিনির আত্মাহুতির পাশাপাশি এদিনের কর্মসূচি সফল করতে গিয়ে আহত হন অন্তত ২ হাজার ৪শ মানুষ। হতাহতদের স্মরণে মঙ্গলবার থেকে তিন দিনের শোক পালনের ঘোষণা দিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ।








