কাশ্মির সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ রেখায় (লাইন অব কন্ট্রোল) ভারত-পাকিস্তান অস্ত্রবিরতির পারস্পরিক সম্মতিকে স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার অস্ত্র বিরতির সমঝোতা বাস্তবায়নে একমত হয় দুই দেশ। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র হেদার নুয়ের্ট এক বিবৃতিতে এ ঘটনাকে দুই দেশের সম্পর্কোন্নয়নে তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ আখ্যা দেন।
গত বুধবার ভারতের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, জম্মু ও কাশ্মিরের নিয়ন্ত্রণরেখায় ২০০৩ সালের অস্ত্রবিরতির সমঝোতা পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করার ব্যাপারে একমত হয়েছে ভারত ও পাকিস্তান। গত ১৬ মে রমজান মাসে কাশ্মিরে অভিযান বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ঘোষণার পরও ২৬ মে নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর ভারতের সেনাবাহিনীর গুলিতে পাঁচজন নিহত হয়। ভারতের তরফ থেকে নিহতের অনুপ্রবেশকারী আখ্যা দেওয়া হয়। এরপর গত ২৯ মে দুই দেশের সেনাবাহিনীর ডিজিএমও-দের মধ্যে হটলাইন আলাপে ২০০৩ সালের অস্ত্রবিরতির সমঝোতা মেনে চলার সিদ্ধান্ত হয়। এই সম্মতিকে স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র হেদার নুয়ের্টের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়ে আসা এই দুই দেশ এবং এই অঞ্চলের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ।’ ভারত-পাকিস্তান সীমান্তবর্তী আফগানিস্তানে দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনীর উপস্থিতি। ২০০১ সালে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের অংশ হিসেবে পাকিস্তানের সমর্থনে আফগানিস্তানে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। ১৭ বছর পরে এসে সেই যুদ্ধে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না আসার প্রেক্ষাপটে চলতি বছরের শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়। পরে অবশ্য দুই দেশ স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রাখার আগ্রহ দেখিয়েছে।
অপরদিকে সম্প্রতি ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরালো করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি দুই দেশের সদ্ভাবের নজির হিসেবে মার্কিন সেনাবাহিনীর প্যাসিফিক কমান্ডের নাম বদল করে রাখা হয়েছে ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড। ৩ লাখ ৭৫ হাজার সামরিক ও বেসামরিক লোকবলের কমান্ডটির ওপরে নজর রাখার কথা জানিয়েছে এই অঞ্চলের আরে প্রতিদ্বন্দ্বি দেশ চীন।
উল্লেখ্য, ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে দুই প্রতিবেশি ভারত-পাকিস্তান স্বাধীন হলেও কাশ্মির নিয়ে বিরোধ থেকে যায়। অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তখন থেকে দুইবার যুদ্ধে জড়িয়েছে পারমাণবিক শক্তিধর দেশ দুটি। তবে কাশ্মিরের সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠনগুলোর কেউ কেউ সরাসরি স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলনরত। কেউ কেউ আবার কাশ্মিরকে পাকিস্তানের অঙ্গীভূত করার পক্ষে। ইতিহাস পরিক্রমায় ক্রমেই সেখানকার স্বাধীনতা আন্দোলনের ইসলামিকরণ হয়েছে। তবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কাশ্মিরের জাতিমুক্তি আন্দোলনকে বিভিন্ন জঙ্গিবাদী তৎপরতার থেকে আলাদা করে শনাক্ত করে না। সন্দেহভাজন জঙ্গি নাম দিয়ে বহু বিদ্রোহীর পাশাপাশি বেসামরিকদের হত্যার অভিযোগ রয়েছে ভারতীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে।








