মালয়েশিয়ায় প্রথমবারের মতো একজন অমুসলিম অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগের সরকারি পরিকল্পনায় সম্মতি দিয়েছে রাজপ্রাসাদ। সোমবার (৪ জুন) রাজপ্রাসাদের বিবৃতিতে জানানো হয়, আইনজীবী টমি থমাসকে বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আপান্দি আলির স্থলাভিষিক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ৯ সুলতানের কাউন্সিল। থমাস একজন ভারতীয় খ্রিস্টান।
গত ৯ মে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা বারিসন ন্যাসিওনাল সরকারকে হারিয়ে জয়লাভ করে মাহাথির মোহাম্মদের নেতৃত্বাধীন চার দলের নতুন জোট। মাহাথির ক্ষমতাসীন জোটের নেতা আর আনোয়ার ইব্রাহিম জোটের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জেতা দল পিকেআর’র নেতা। এই দুইজন প্রথমে বন্ধু, তারপর শত্রু ও পরে জোটের মিত্রে পরিণত হয়েছেন। মাহাথিরের সময়ে আনোয়ারকে কারাগারে পাঠানো হলেও এবার নাজিবকে ক্ষমতা থেকে হটাতে জোটবদ্ধ হন তারা। প্রধানমন্ত্রিত্ব ভাগাভাগি করার ব্যাপারেও সম্মত হন দুই নেতা।
ওয়ানএমডিবি দুর্নীতি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককে নির্দোষ উল্লেখ করে খালাস দেওয়ায় মোহাম্মদ আপান্দির ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন মাহাথির। মালয়েশিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে মোহাম্মদ আপান্দিকে ছুটিতে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে থমাসকে অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। মালয়েশিয়ার মোট জনগোষ্ঠীর ৬০ শতাংশই মুসলিম মালে। সংখ্যাগরিষ্ঠ মালে জনগোষ্ঠীকে প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনগুলো মাহাথিরের পরিকল্পনায় সম্মত নয়। তবে সোমবার (৪ জুন) মালয়েশিয়ার রাজপ্রাসাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মাহাথিরের পরামর্শ অনুযায়ী এবং বাকি ৮ সুলতানের সঙ্গে আলোচনার পর সুলতান পঞ্চম মোহাম্মদ (মালয়েশিয়ার সাংবিধানিক রাজতন্ত্রের শীর্ষ ব্যক্তি) অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে থমাসকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন। রাজপ্রাসাদের কর্মকর্তা ওয়ান আহমদ দাহলান আব্দুল আজিজ সুলতানের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতির সূত্রে বলেন, এ নিয়োগে একইসঙ্গে মুসলিম মালে ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বিশেষ অধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে। একইসঙ্গে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলামও সুরক্ষিত থাকবে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে থমাসের মূল কাজ হবে ওয়ান মালয়েশিয়া ডেভেলপমেন্ট বেরহাদ (ওয়ানএমডিবি) তহবিল নিয়ে দুর্নীতিতে জড়িতদের বিচারের পদক্ষেপ নেওয়া। এ ওয়ানএমডিবি তহবিলই সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককে ক্ষমতার পতনের অন্যতম কারণগুলোর একটি বলে মনে করা হয়। নাজিব অবশ্য বরাবরই তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তবে তার দেশ ত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। নির্বাচনের পর ওয়ানএমডিবি দুর্নীতির ঘটনায় নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো।








