বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া পলাতক আসামী নূর চৌধুরীকে দেশে ফেরত পাঠাতে আবারও কানাডার সরকারকে অনুরোধ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রবিবার (১০ জুন) এক বৈঠকে কানাডীয় প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোকে এই অনুরোধ জানান তিনি। ট্রুডো হাসিনাকে জানান, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ নিয়ে কাজ করছেন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১২ জনের মধ্যে পাঁচজনের ফাঁসি কার্যকর করে সরকার। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের মধ্যে অন্যতম সাবেক সেনা কর্মকর্তা এই নূর চৌধুরী। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি কানাডায় পালিয়ে রয়েছেন।
কানাডার প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে জি-সেভেন আউটরিচ সম্মেলনে যোগ দিতে শুক্রবার (৮ জুন) দুপুরে কুইবেকে পৌঁছান শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীসহ বিশ্বের আরও ১২ জন নেতাকে আউটরিচ অধিবেশনে যোগ দিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়। সম্মেলনে যোগ দেওয়া শেষে রবিবার (১০ জুন) কুইবেকের লা শ্যাতো ফ্রন্টেন্যাক হোটেলে ট্রুডোর সঙ্গে বৈঠক করেন শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কী নিয়ে আলাপ হয়েছে তা জানিয়েছেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনী নূর চৌধুরীকে দ্রুত দেশে ফেরত পাঠাতে ট্রুডোর ব্যক্তিগত পদক্ষেপ কামনা করেন। ট্রুডোর সঙ্গে বৈঠকে শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘নূর চৌধুরী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারী। সে একজন আত্মস্বীকৃত হত্যাকারী এবং বাংলাদেশের আইনে দোষী সাব্যস্ত।’ ইহসানুল করিম জানান, প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধের জবাবে ট্রুডো তার প্রতি সমবেদনা জানান। শেখ হাসিনাকে ট্রুডো বলেন, ‘এটা আপনার জন্য কতটা কষ্টদায়ক তা আমি বুঝতে পারছি।’
কানাডা মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিপক্ষে। সে দেশের আইন অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত কোনও ব্যক্তি কানাডায় অভিবাসী হলে ও জীবনাশঙ্কার কথা জানিয়ে আবেদন করলে সেই ব্যক্তিকে তার দেশে ফেরত পাঠানো হয় না। ১০ জুন শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে ট্রুডো জানিয়েছেন, নূর চৌধুরী কানাডার নাগরিকত্ব পায়নি, সে কানাডার নাগরিক নয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে বিতাড়নের প্রশ্নে তার দেশের আইনি ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে ট্রুডো আরও জানান, সংশ্লিষ্ট কানাডীয় কর্মকর্তারা এ নিয়ে কাজ করছে।
উল্লেখ্য, নূর চৌধুরী কানাডার নাগরিকত্ব না পেলেও ‘প্রি-রিম্যুভাল রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট’ বিধির সুযোগ নিয়ে কানাডায় আছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা ২০১৬ সালে বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছিলেন, ২০০৬ সালে কানাডায় তার রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনার আবেদন নামঞ্জুরের পর তার কূটনৈতিক পাসপোর্ট অটোয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসে ফেরত দেওয়া হয় এবং তাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে কানাডা ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করে। তবে বাংলাদেশের তৎকালিন সরকার এ নিয়ে কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। সেই সুযোগ নিয়ে নূর চৌধুরী কানাডার খ্যাতনামা অভিবাসন আইনজীবী বারবারা জ্যাকসনের কাছে যান এবং কানাডার অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসে ২০০৭ সালের মাঝামাঝি তাকে ফেরত না পাঠানোর জন্য আবারও আবেদন করেন। এখন পর্যন্ত সেই আবেদনের নিষ্পত্তি করেনি অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস। তাই নূর চৌধুরীর বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টিও ঝুলে আছে।
সূত্র: বাসস








