শিগগির রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর প্রত্যাশা চীনের, সহায়তার আশ্বাস

বিদেশ ডেস্ক
৩০ জুন ২০১৮, ০৯:৪৪আপডেট : ৩০ জুন ২০১৮, ০৯:৫২
image

চীন মনে করছে, মিয়ানমার এখন বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুত। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, দুই দেশের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দ্রুত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে প্রত্যাশা করছে বেইজিং। এদিকে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা-বাসস জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ বাসভূমিতে ফেরার ক্ষেত্রে চীন বাংলাদেশকে সহায়তারও আশ্বাস দিয়েছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী (বায়ে) ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর (ডানে) মধ্যকার বৈঠক

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী চীনের স্টেট কাউন্সিলর ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং য়ি’র আমন্ত্রণে ২৮ জুন থেকে ৩০ জুন তিন দিনব্যাপী চীন সফর করছেন। ২৯ জুন (শুক্রবার) বেইজিংয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াংয়ির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাসস জানিয়েছে, বৈঠককালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী চীন পক্ষকে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া ১১ লাখ রোহিঙ্গাদের অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী চীনকে বলেছেন, ‘বিতাড়িত রোহিঙ্গারা এতটাই আতঙ্কগ্রস্ত যে, তারা তাদের ফেরার ক্ষেত্রে নিরাপত্তার পূর্ণ নিশ্চয়তা চায়। তারা তাদের নিজেদের মূল গ্রামে ফিরে যেতে চায় কোন আশ্রয় কেন্দ্রে নয়। তাদের জীবিকা অর্জনের সুযোগ দেয়া আবশ্যক।’

অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে সামরিক-বৌদ্ধতন্ত্রের প্রচারণায় রাখাইনে ছড়ানো হয়েছে রোহিঙ্গা-বিদ্বেষ। ২০১৬ সালের আগস্টে অভিযান জোরদার করার আগের কয়েক মাসের সেনাপ্রচারণায় সেই বিদ্বেষ জোরালো হয়। এরপর  নির্ভতে শুরু হয় সেনা-নিধনযজ্ঞ। ২০১৭ সালের অক্টোবরে রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে সন্ত্রাসী হামলার পর জোরালো হয় নিধনযজ্ঞ। হত্যা-ধর্ষণ ও ঘরবাড়িতে আগুন দেওয়ার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের মাধ্যমে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য করা হয় ৭ লাখ রোহিঙ্গাকে। উদারভাবে বাংলাদেশ তাদের আশ্রয় দেয়।

স্থানচ্যুত রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে রাখাইন রাজ্যে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি ও মিয়ানমার সরকারকে উৎসাহিত করায় চীনের সক্রিয় সহায়তা চাওয়া হয় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির সূত্রে বিএসএস জানিয়েছে, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে প্রত্যাবাসন এবং সেখানে গৃহনির্মাণ এবং অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টির মাধ্যমে সেখানকার পুনর্বাসন পরিবেশ উন্নয়নে সহায়তার মাধ্যমে তাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে তার দেশের পূর্ণ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন।

এদিকে রয়টার্সের বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াংয়ি খবরে বলা হয়েছে, বেইজিংয়ে তিনি মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা দফতরের মুখপাত্র খিয়াও টিন্ট এর সঙ্গে কথা বলেছেন। প্রত্যাবাসন সংকটকে মিয়ানমার কীভাবে মোকাবেলা করছে, চীন সে ব্যাপারে তার কাছে থেকে জেনেছে। ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি শরণার্থী হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশকারীদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার ইতোমধ্যেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে’। সাংবাদিকদের বলেছেন তিনি।

প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে রোহিঙ্গারা রাখাইনে থাকলেও মিয়ানমার তাদের নাগরিক বলে স্বীকার করে না। উগ্র বৌদ্ধবাদকে ব্যবহার করে সেখানকার সেনাবাহিনী ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে স্থাপন করেছে সাম্প্রদায়িক অবিশ্বাসের চিহ্ন। ছড়িয়েছে বিদ্বেষ। ৮২-তে প্রণীত নাগরিকত্ব আইনে পরিচয়হীনতার কাল শুরু হয় রোহিঙ্গাদের। এরপর কখনও মলিন হয়ে যাওয়া কোনও নিবন্ধনপত্র, কখনও নীলচে সবুজ রঙের রশিদ, কখনও ভোটার স্বীকৃতির হোয়াইট কার্ড, কখনও আবার ‘ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড’ কিংবা এনভিসি নামের রং-বেরঙের পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানুষকে। ধাপে ধাপে মলিন হয়েছে তাদের পরিচয়। ক্রমশ তাদের রূপান্তরিত করা হয়েছে রাষ্ট্রহীন বেনাগরিকে।
শরণার্থী হয়ে ধাপে ধাপে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে মিয়ানমার শুরু থেকেই বাঙালি মুসলিম আখ্যা দিয়ে নাগরিকত্ব অস্বীকার করে আসছে। তবে ২০১৭ সালের অক্টোবরের পর থেকে নিধনযজ্ঞের শিকার হয়ে পালিয়ে আসা ৭ লাখ রোহিঙ্গার প্রশ্নে আন্তর্জাতিক চাপ জোরালো হওয়ার এক পর্যায়ে প্রত্যাবাসন চুক্তিতে বাধ্য হয় মিয়ানমার। তবে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, কথিত বৈধ কাগজপত্রের অজুহাতসহ নানা কারণে প্রক্রিয়াটি এখনও বিলম্বিত করে যাচ্ছে মিয়ানমার। একজন রোহিঙ্গাও ওই চুক্তির আওতায় রাখাইনে ফিরেছে বলে জানা যায়নি।

/বিএ/
সম্পর্কিত
ড্রোন কিনতে ২০০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনা ভারতের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতা কে এই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
সর্বশেষ খবর
মৌমাছির রানি হয়ে ওঠার রহস্য কী
মৌমাছির রানি হয়ে ওঠার রহস্য কী
তিন বছর নয়, এলডিসি উত্তরণ নিয়ে কীভাবে ভুল করলো দেশের প্রায় সব মিডিয়া
তিন বছর নয়, এলডিসি উত্তরণ নিয়ে কীভাবে ভুল করলো দেশের প্রায় সব মিডিয়া
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম