শূন্য পড়ে আছে রাখাইনের ট্রানজিট ক্যাম্প, ফিরছে না একজন রোহিঙ্গাও

বিদেশ ডেস্ক
০১ জুলাই ২০১৮, ০৮:২৩আপডেট : ০১ জুলাই ২০১৮, ০৮:৩০
image

মিয়ানমার-বাংলাদেশ প্রত্যাবাসন চুক্তি অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে রাখাইনে প্রস্তুত করা হয়েছে ট্রানজিট ক্যাম্প। সেই ক্যাম্পে মিয়ানমারের অভিবাসন কর্মকর্তারা যেমন আছেন, সাংবাদিকরাও আসছেন প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত প্রতিবেদনের খোঁজে। তবে চুক্তি অনুযায়ী যাদের বাংলাদেশ থেকে ফিরবার কথা, সেই রোহিঙ্গাদেরই কেবল দেখা মেলে না। প্রতিদিন দেড়শ জন রোহিঙ্গাকে গ্রহণের প্রতিশ্রুতি ছিল মিয়ানমারের। তবে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, এ পর্যন্ত বড়জোর ২০০ জনের প্রত্যাবাসন সম্পন্ন হয়েছে। নেপিদো অনেক রোহিঙ্গাকে এরইমধ্যে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে দাবি করলেও এরইমধ্যে এ সংক্রান্ত ২ টি সাজানো ঘটনা ধরা পড়েছে তাদের। বাংলাদেশের দাবি, আসলে প্রত্যাবাসন শুরুই হয়নি।     


রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে নির্মিত ট্রানজিট ক্যাম্প কয়েক প্রজন্ম ধরে রাখাইনে বসবাস করে আসলেও রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব স্বীকার করে না মিয়ানমার। গত বছরের আগস্টে রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে হামলার পর রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। খুন, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা। কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হওয়া এসব রোহিঙ্গাদের ফেরাতে বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের সঙ্গে মিয়ানমার চুক্তি স্বাক্ষর করলেও এখনও শুরু হয়নি প্রত্যাবাসন।

বাংলাদেশের সঙ্গে স্বাক্ষরিত প্রত্যাবাসন চুক্তি অনুযায়ী দিনে ১৫০ রোহিঙ্গাকে গ্রহণ করার কথা ছিল মিয়ানমারের। এজন্য ট্রানজিট ক্যাম্পও প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে এএফপির এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বেশিরভাগ সময়ই খালি পড়ে থাকে ক্যাম্পগুলো। মিয়ানমারের অভিবাসন কর্মকর্তারা কাগজপত্র নিয়ে এই ট্রানজিট ক্যাম্পে অপেক্ষা করেন। প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করেন সাংবাদিকরা। কেবল রোহিঙ্গাদের দেখা মেলে না সেখানে।

মিয়ানমারের অভিবাসন বিষয়ক কর্মকর্তা উইন খাইং বলেন, ‘জানুয়ারি থেকেই আমরা তাদের গ্রহণ করতে প্রস্তুত।’  তবে এএফপি জানিয়েছে, রোহিঙ্গারাও নিরাপত্তার অভাবে মিয়ানমারে ফিরতে রাজি হচ্ছেন না। মিয়ানমারও নিরাপত্তা নিশ্চিতের শক্তিশালী কোনও আশ্বাস দিতে পারছে না।  তাদের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এলেও মাত্র ২০০ জনের প্রত্যাবাসন সম্পন্ন হয়েছে। এরপরও মিয়ানমার বেশ কয়েকবার দাবি করেছে যে অনেক রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তারা জানায়, মিয়ানমার থেকে নৌকায় করে পালানোর চেষ্টা করা রোহিঙ্গাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে তাদেরকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে এক করতে নারাজ বাংলাদেশ। বাংলাদেশি শরণার্থী কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম বলেন, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এখনও শুরু হয়নি।

রোহিঙ্গা নারীরা জানান, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ধর্ষণ চালায়। তারা চোখের সামনে দেখতে পান ভয়াবহ নিধনযজ্ঞ। জাতিসংঘ এই ঘটনাকে জাতিগত নিধনযজ্ঞের ‘পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ’ বলে উল্লেখ করে।

গত এপ্রিলে পাঁচজন রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হলেও পরে মিয়ানমারের মিথ্যাচার ধরা পড়ে। তবে পরে জানা যায় যে এটা স্রেফ প্রচারণা ছিল।  শুক্রবার সাংবাদিকদের সামনে ৯জন কথিত প্রত্যাবাসিত রোহিঙ্গাকে হাজির করা হলেও অল্প সময় পরেই জানা যায়, এরা বাংলাদেশ থেকে ফিরে যায়নি। প্রত্যাবাসন বিলম্বিত হওয়ায় বাংলাদেশ-মিয়ানমার সম্পর্কও খারাপ হয়েছে। দেরীর জন্য দুইপক্ষই পরষ্পরকে দোষারোপ করে। এরইমাঝে মিয়ানমার রাখাইনে উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। রোহিঙ্গা বসতি ভেঙে নগরায়ন করছে কর্তৃপক্ষ। 

জাতিসংঘ জানিয়েছে, রাখাইনের পরিস্থিতি এখনও রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য নিরাপদ ও সহায়ক নয়। তবু পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য মিয়ানমারের সঙ্গে জাতিসংঘ একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। অ্যামনেস্টি জানিয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধের জড়িত মিয়ানমারের সেনা কর্মকতাদের বিরুদ্ধে বিচার করা উচিত। সর্বশেষ মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের টিআইপি প্রতিবেদনেও দেখা গেছে মানবপাচারে শীর্ষে রয়েছে মিয়ানমার। এসব পাচার ঠেকাতে যথাযথ ভূমিকাও নেয়নি তারা।

/এমএইচ/বিএ/
সম্পর্কিত
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতা কে এই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম