অনুশীলন শেষে ২৫ বছরের কোচ এক্কাপোল জানথাওং-কে সঙ্গে নিয়ে গত ২৩ জুন থাম লুয়াং গুহায় প্রবেশ করে থাইল্যান্ডের ১২ খুদে ফুটবলার। এদের প্রত্যেকের বয়স ১১ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। গুহাটির ভেতরে তারা ঘুরতে গিয়েছিল। কিন্তু বৃষ্টিতে গুহার প্রবেশমুখ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা আর বের হতে পারেনি। এরপর টানা ৯ দিন নিখোঁজ থাকার পর গত ২ জুলাই গুহার ভেতরে জীবিত অবস্থায় তাদের শনাক্ত করেন ব্রিটিশ ডুবুরি রিচার্ড স্ট্যানটন ও জন ভলানথেন। এরপর তাদের জন্য সেখানে পর্যাপ্ত অক্সিজেন, খাবার ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠানো হয়।
রবিবার (৮ জুলাই) থাইল্যান্ড সরকার শিশুদের উদ্ধারে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তিন দিনের অভিযানে ১০ জুলাই মঙ্গলবার উদ্ধার হন কোচসহ ১২ খুদে ফুটবলার।
পুরো উদ্ধার অভিযান ছিল খুবই কষ্টসাধ্য। কারণ গুহাটির প্রায় এক মাইল দীর্ঘ অংশে পানি জমে আছে। আটকা পড়াদের অনেকেই সাঁতার জানে না। তাদেরকে ডুবুরিরা প্রশিক্ষণ দিয়ে উদ্ধারের জন্য তৈরি করেছেন। প্রত্যেককে বের করে আনার সময় সঙ্গে দুইজন করে দক্ষ নৌবাহিনীর ডুবুরি ছিলেন।
দুই জন ডুবুরিকে সঙ্গে নিয়ে হেঁটে এবং ডুব সাঁতার দিয়ে গুহা থেকে বেরিয়ে আসে শিশুরা। অভিযানে যুক্ত ছিলেন আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলের ডুবুরি ইভান কারাদজিক। তিনি বলেন, এই শিশুদের কারও এভাবে ডুব সাঁতারের অভিজ্ঞতা ছিল না।
উদ্ধার অভিযানের অংশ হিসেবে পাম্প করে পানি কমানোর ফলে উঁচুনিচু গুহার কিছু জায়গায় হাঁটার মতো অবস্থা তৈরি হয়। কিন্তু তারপরও কিছু জায়গায় স্কুবা সামগ্রী নিয়ে ডুব সাঁতারের আশ্রয় নিতে হয়েছে। যদিও এই শিশুদের এ ধরনের সাঁতারের কোনও পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না।
গুহার প্রবেশপথ থেকে ‘তৃতীয় চেম্বার’ বা অভিযান শুরুর এলাকার দিকে যেতে দেড় কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয় উদ্ধারকারীদের। ‘তৃতীয় চেম্বার’ থেকে শিশুদের কাছে পৌঁছাতে তাদের যেতে হয় আরও ১ দশমিক ৭ কিলোমিটার। আটকে পড়া ফুটবলারদের চারটি দলে ভাগ করা হয়। প্রথম দলে ছিল চারজন। দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ দলে ছিল তিনজন করে। অভিযানের প্রথম দিনে সবার আগে বের হয়ে আসে ১৪ বছর বয়সী আদুল ‘দুল’ স্যাম। আটকে পড়া ফুটবল দলটির কোচ বের হন তৃতীয় দিনের অভিযানের সবশেষ ব্যক্তি হিসেবে।
৮ জুলাই
অভিযানের প্রথম দিন ৮ জুলাই রবিবার চার শিশুকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর তাদের দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
৯ জুলাই
এদিন উদ্ধার হয় ওয়াইর্ল্ড বোয়ার্স নামের ওই ফুটবল দলের আরও চার শিশু। তাদের সবাইকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
১০ জুলাই
গুহায় আটকে পড়ার ১৮ দিনের মাথায় ১০ জুলাই মঙ্গলবার শেষ হয় তিন দিনের উদ্ধার অভিযান। আগের দিন রাতে ভারী বর্ষণ সত্ত্বেও এদিন চার খুদে ফুটবলার ও তাদের কোচকে উদ্ধার করা হয়। সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে হাসপাতালে সাতদিন পর্যন্ত তাদের আলাদা করে রাখা হবে।








