আগামী ২৫ জুলাই পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে সামরিক বাহিনী সরাসরি কোনও ভূমিকা রাখবে না। সংসদের উচ্চকক্ষ সিনেটে একথা জানিয়েছেন দেশটির আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ দফতরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আসিফ গফুর। বৃহস্পতিবার (১৯ জুলাই) সিনেটের স্বরাষ্ট্র বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটিকে তিনি জানান, নির্বাচনে সামরিক বাহিনীর সদস্যরা শুধু নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুসরণ করবে। নির্বাচন উপলক্ষে সারাদেশে তিন লাখ ৭১ হাজার সেনা সদস্য মোতায়েন থাকবে বলেও জানান তিনি। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন এসব খবর জানিয়েছে।
পাকিস্তানের স্বাধীনতার ৭১ বছরের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো পূর্ণ মেয়াদ ক্ষমতায় থাকা কোনও গণতান্ত্রিক সরকারের বিদায়ের পর আগামী ২৫ জুলাই সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে স্বাধীনতার শুরু থেকেই দেশটির শাসন ক্ষমতায় সেনা আধিপত্য দৃশ্যমান। এবারের নির্বাচনের আগেও দুর্নীতির মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে কারাগারে পাঠানোর নেপথ্যে সেনা ইন্ধন দেখছেন কেউ কেউ।
তবে তা উড়িয়ে দিয়ে আইএসপিআর মহাপরিচালক বৃহস্পতিবার সিনেটে বলেছেন, ‘সামরিক বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন ধরনের আদেশ ইস্যু করছে বলে গুজব ছড়াচ্ছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। নির্বাচনের সঙ্গে আমাদের কোনও সম্পর্ক নেই; আমরা শুধু নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কাজ করছি। নির্বাচনে সরাসরি আমাদের কোনও ভূমিকা নেই।’
মেজর জেনারেল গফুর বলেন, সামরিক বাহিনী সবসময় বেসামরিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা দেয়। সারা দেশেই নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে, যাতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। তিনি জানান, দেশব্যাপী ভোটকেন্দ্রগুলোতে তিন লাখ ৭১ হাজার সেনা সদস্য মোতায়েন করা হবে। এছাড়া সেনাবাহিনী ব্যালট পেপার ছাপাতে ছাপাখানায় কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, পাকিস্তানের এবারের নির্বাচনের ব্যালট পেপারের কাগজ আমদানি হয়েছে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য থেকে। আর এই কাগজে ব্যালট ছাপার কাজ তদারকি করছে দেশটির সেনাবাহিনী।
সম্প্রতি পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে এক নির্বাচনি প্রচার সভায় আত্মঘাতী হামলায় প্রার্থীসহ দেড়শ’ মানুষের প্রাণহানি ঘটনা ঘটে। সিনেটের শুনানিতে পাকিস্তান মুসলিম লিগের (পিএমএল-নওয়াজ) সিনেটর কুলসুম পারভিন বেলুচিস্তানে কত সংখ্যক সেনা মোতায়েন করা হবে জানতে চাইলে আইএসপিআর মহাপরিচালক বলেন, ‘পরিকল্পনার দিকটি আমাদের ওপর ছেড়ে দিন, আমরা জানি কোথায় কত সংখ্যক সেনা মোতায়েন করতে হবে। আমরা নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে প্রতিটি জায়গা বিশ্লেষণ করেছি। বেলুচিস্তানে যত সেনা প্রয়োজন হবে ততজনই মোতায়েন করা হবে।’
মেজর জেনারেল গফুর জানান, নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করলেও কোনও রাজনীতিবিদের নিরাপত্তার সরাসরি দায় নেবেন না তারা। তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রার্থীদের নিরাপত্তা দেওয়া পাকিস্তান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কাজ। নির্বাচনের সময়ে আমরা নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা দিচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে পুলিশের সক্ষমতার যতক্ষণ উন্নতি না হচ্ছে ততক্ষণ আমাদের পুলিশের দায়িত্বও পালন করতে হবে।’
সিনেটের স্বরাষ্ট্র বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান রেহমান মালিক ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিব ও আরও কয়েকটি দফতরের সরকারি কর্মকর্তারা এতে উপস্থিত ছিলেন।








