পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএলএন) এর দলীয় প্রধান ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের ছোট ভাই শাহবাজ শরিফ লাহোরের একটি কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন। বুধবার (২৫ জুলাই) সকালে পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরুর কয়েক মিনিটের মাথায় তিনি তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। শাহবাজের দাবি, পিএমএল-এন এর প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের সমর্থন রয়েছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনের এক প্রতিবেদন থেকে এসব কথা জানা গেছে।
বুধবার (২৫ জুলাই) সকাল আটটা থেকে পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচন ও চারটি প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে। প্রত্যেক ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিপুল সংখ্যক সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। সামরিক সূত্র জানিয়েছে,এবার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সেনাবাহিনীর ৩ লাখ ৭১ হাজারের বেশি সেনা মোতায়েন থাকছে। একই সঙ্গে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর আরও সাড়ে ৪ লাখের বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
বুধবার ভোটগ্রহণ শুরুর পর ভোটারদের সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেন শাহবাজ শরিফ। কয়েক মিনিট পরই পোলিং বুথে প্রবেশ করে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন শাহবাজ শরিফ। একইসঙ্গে সাধারণ নির্বাচন ও পাঞ্জাব প্রাদেশিক নির্বাচনের জন্য ভোট দেন তিনি। সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শাহবাজ দাবি করেন, 'সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ পিএমএল-এন কে ভোট দিতে চায়'। ভাই নওয়াজ শরিফ ও ভাতিজি মরিয়মের কারাগারে আটক থাকার প্রসঙ্গ টেনে শাহবাজ বলেন, ‘মিঞা সাহেব (নওয়াজ) ও তার মেয়ে (মরিয়ম) পাকিস্তানের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন।’
গত বছর পানামা পেপারস কেলেঙ্কারি মামলায় অভিযুক্ত হয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে প্রধানমন্ত্রী পদে অযোগ্য ঘোষিত হওয়ার পর পদত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। দলীয় প্রধান হিসেবেও তাকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। এরপর পিএমএল-এন এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন নওয়াজের ছোট ভাই শাহবাজ শরিফ। লন্ডনে কেনা বিলাসবহুল চারটি ফ্ল্যাটের মূল্য পরিশোধে দেওয়া অর্থের উৎস দেখাতে ব্যর্থ হওয়ার দায়ে ৬ জুলাই নওয়াজ শরিফকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত। মেয়ে মরিয়মকে দেওয়া হয় ৭ বছরের কারাদণ্ড। আদালতের রায় ঘোষণার সময় পিতা ও কন্যা লন্ডনে অবস্থান করছিলেন। ১৩ জুলাই লন্ডন থেকে দেশে ফিরেই গ্রেফতার হন তারা।
এবারের নির্বাচনে ৩০টি বেশি দলের ১২ হাজার ৫৭০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। পাকিস্তানে এখন মোট ভোটার সংখ্যা ১০ কোটি ৬০ লাখ। নির্বাচনের প্রচারণায় পাকিস্তানের শীর্ষ তিন দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন), পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) একে অপরকে দোষারোপ আর অভিযোগ করে গেছে। তবে তাদের মধ্যে পিএমএল-এন ও বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির পিপিপি অভিযোগ করেছে,পাকিস্তানের ক্ষমতাশালী সামরিক বাহিনী তাদের সমর্থকদের ভয় দেখানোর পাশাপাশি প্রার্থীদের দলত্যাগের জন্য চাপ দিয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে পিএমএল-এন’র কমপক্ষে ২০ জন প্রার্থী পিটিআইতে যোগ দিয়েছে বা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে।








