পাকিস্তানে চলমান সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বাড়াতে এবার ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক ই ইনসাফ (পিটিআই) এর পক্ষ থেকেও আবেদন করা হয়েছে। বুধবার (২৫ জুলাই) দলটির মুখপাত্র ফাওয়াদ চৌধুরী নির্বাচন কমিশন বরাবর লিখিত আবেদন জানান। ভোটগ্রহণ শেষ করার সময়সীমা সন্ধ্যা ৬টার বদলে সন্ধ্যা সাতটা করার অনুরোধ করা হয়। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনের এক প্রতিবেদন থেকে এ কথা জানা গেছে। এর আগে পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএলএন) ও পাকিস্তান পিপল’স পার্টির পক্ষ থেকে ভোটগ্রহণের সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করা হলে তা খারিজ করে দেয় কমিশন।
বুধবার (২৫ জুলাই) সকাল আটটায় পাকিস্তানের ১১ তম সাধারণ নির্বাচন ও চারটি প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। নির্বাচন কমিশনের বেঁধে দেওয়া সময় অনুযায়ী সন্ধ্যা ছয়টা নাগাদ ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার কথা। তবে এ সময় পর্যাপ্ত নয় উল্লেখ করে পাকিস্তান নির্বাচন কমিশনের কাছে আলাদা করে সময় বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছিল পিএমএল-এন ও পিপিপি এএনপি ও আওয়ামী মুসলিম লিগ। পিএমএলএন-এর লিখিত আবেদনে বলা হয়: ‘একদিকে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন, অন্যদিকে একইসঙ্গে মাত্র তিন-চারজনকে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে গরম ও আদ্র আবহাওয়ার মধ্যে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভোটারদের কেবল কষ্ট হচ্ছে তা নয়; প্রায় সবগুলো ভোটকেন্দ্রে ক্লান্তিকর, ধীর ও অসুবিধাজনক ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার কারণে অনেকে ভোট দেওয়া থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’ তবে সে আবেদন প্রত্যাখ্যান করে নির্বাচন কমিশন।
শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী দল পাকিস্তান তেহরিক ই ইনসাফের পক্ষ থেকেও সময় বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে অবশ্য নির্বাচন কমিশনের প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।
পাকিস্তানে এবার প্রত্যেক ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মোতায়েন করা হয় রেকর্ড সংখ্যক সেনা। ডনের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়,এবার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সেনাবাহিনীর ৩ লাখ ৭১ হাজারের বেশি সেনা সদস্য এবং পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর আরও সাড়ে ৪ লাখের বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়। এবারের নির্বাচনে ৩০টিরও বেশি দলের ১২ হাজার ৫৭০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। পাকিস্তানে এবার নিবন্ধিত ভোটার সংখ্যা ১০ কোটি ৬০ লাখ। নির্বাচনে শীর্ষ তিনটি প্রতিদ্বন্দ্বী দল হলো-পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন),পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)।








