পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয় পাওয়া পাকিস্তানের আগামী প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে সেনাবাহিনীই ক্ষমতায় এনেছে; দাবি করেছেন তার দ্বিতীয় স্ত্রী রেহম খান। বিবিসির এই সাবেক সংবাদকর্মী অভিযোগ তুলেছেন, ২/৩ বছর আগেই ঠিক করা ছিল ইমরানের দল ক্ষমতায় আসবে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইমরান ‘সেনাবাহিনীর হাতের আদর্শ পুতুল’ হবেন বলে মন্তব্য করেন রেহম। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।
ইমরান খানের দ্বিতীয় স্ত্রী ও সাবেক সাংবাদিক রেহাম খান এখন যুক্তরাজ্যে থাকেন। চলতি মাসেই প্রকাশিত হয়েছে তার আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ। সেখানে তিনি ইমরানের বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতন ও বিকৃত যৌনাচারের অভিযোগ এনেছেন। প্রকাশের আগেই ফাঁস হয়ে গিয়েছিল পাণ্ডুলিপির একাংশ। বইটিতে ইমরানকে ভণ্ড, মিথ্যাবাদী বলার পাশাপাশি অভিযোগ তুলেছিলেন, তিনি ধর্মীয় আচারবিধিও মানেন না। রেহম আরও লিখেছেন, নিজ দলে বড় পদ দেওয়ার লোভ দেখিয়ে নারী কর্মীদের যৌন সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করতেন ইমরান। রেহম তার আত্মজীবনীতে ইমরানকে সেনাবাহিনীর হাতে জন্ম নেওয়া রাজনীতিক আখ্যা দিয়েছেন।
২০১৫ সালে ইমরান ও রেহম বিয়ে করেন। ১০ মাস পর তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। যুক্তরাজ্য থেকে টেলিফোনে ভারতের দ্য হিন্দুকে দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন রেহম। দ্য হিন্দুর পক্ষ থেকে সুহাসিনী হায়দার তাকে মনে করিয়ে দিয়েছেন, ২০০৮ সালে সেনাবাহিনীর অধীনে নির্বাচন করতে রাজি হননি ইমরান। তিনি নির্বাচন বয়কটও করেছিলেন। জানতে চেয়েছেন, তারপরও কেন ইমরানের বিরুদ্ধে রেহমের সেনা-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ। জবাবে রেহম বলেন, ‘যেহেতু আমি তার স্ত্রী ছিলাম, আমি সবই শুনেছি, সবই জানি। ইমরান সবসময়ই সেনাবাহিনীর সঙ্গে তার এই সংশ্লিষ্টতার কথা বলতেন। ২০০৮ সালে হয়তো ইমরান হতাশার কারণেই নির্বাচন বয়কট করেছিলেন। তিনি হয়তো ভেবেছিলেন, তখনও সেনাবাহিনী তাকে সমর্থন দিচ্ছে না। তবে আমি যখন থেকে তাকে চিনি, তখন থেকেই সেনাবাহিনীর সমর্থনের ব্যাপারে তার সন্তোষ ছিল। আমার মনে হয়, দুই তিন বছর আগে থেকেই এটা নির্ধারণ করা ছিল যে ইমরান প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন।
পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর আশীর্বাদপুষ্ট না হয়ে ক্ষমতায় আসা সম্ভব কিনা, দ্য হিন্দুর পক্ষে সুহাসিনীর এমন প্রশ্নের জবাবে রেহম বলেন, ‘আপনি ঠিকই বলেছেন। ২০১৩ সালের নির্বাচনের পর ইমরানই অভিযোগ তুলেছিলেন, নওয়াজ সেনাবাহিনীর মদতে ক্ষমতায় এসেছে। ইমরান নিজেও বুঝেছিলেন, এটাই ক্ষমতার পথ।’ রেহম বলেছেন, নওয়াজ শরিফ যখন ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করে যাচ্ছেন এবং চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর চালুর দিকে যাচ্ছিলেন, তখন সেনাবাহিনী হতাশ হয়েছে। তখনই নওয়াজ শরিফের বিদায়ের পথ তৈরি করতে থাকে সেনারা। তিনি বলেছেন, ‘আমার ধারণা সেনাবাহিনী এবার তাদের ক্ষমতার চূড়ান্ত রূপ দেখাতে চায়, আর সেজন্যই তারা ইমরানকে বেছে নিয়েছে। ইমরানই হবে তাদের হাতের আদর্শ পুতুল। জটিল অনেক ইস্যু সম্পর্কে তার কোনও জানাশোনাই নেই। ইমরানকে তাই সেনাবাহিনীর ইচ্ছা অনুসরণ করতেই হবে।’








