মালয়েশিয়ার সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের প্রধান আজহারউদ্দিন আবদুর রহমান পদত্যাগ করেছেন। বহুল আলোচিত মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসের এমএইচ৩৭০ নম্বর ফ্লাইটটি নিখোঁজ হওয়া সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের একদিনের মাথায় মঙ্গলবার তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন। সোমবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে ফ্লাইটটি নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় এয়ার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের গাফিলতি ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ওই ঘটনার দায় কাঁধে নিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দেন আজহারউদ্দিন আবদুর রহমান। তবে তার এই পদত্যাগ কার্যকর হতে ১৪ দিন সময় লাগবে।
বিবৃতিতে আজহারউদ্দিন আবদুর রহমান বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদনে মানসম্পন্ন পরিচালনা পদ্ধতি মেনে চলার উল্লেখ থাকলেও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের ব্যর্থতাকে বড় করে দেখানো হয়েছে। এটা দুঃখজনক। বহু চিন্তাভাবনার পর আমি সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
তিনি বলেন, গত চার বছরে এমএইচ৩৭০-এর অনুসন্ধানে আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছি। সবসময় ওই ঘটনার উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছি।
সোমবার প্রকাশিত ৪৯৪ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভবত উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়েছে। তবে এজন্য দায়ীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে এ বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন মালয়েশিয়ার পরিবহনমন্ত্রী অ্যান্থনি লোক। পার্লামেন্টে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ফ্লাইটটি নিখোঁজের সময় দায়িত্বরত ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা কক সু চন বলেন, বিমানটিতে তৃতীয় কোনও পক্ষের অবৈধ হস্তক্ষেপের আশঙ্কা বাতিল করে দেওয়া যায় না। তবে অন্য কারণ থাকতে পারে। এক্ষেত্রে পাইলটের মানসিক অবস্থা, বিমান বা অপারেশন সিস্টেমের রিমোট কন্ট্রোলে ত্রুটির মতো উপাদানগুলোর কথা উল্লেখ করেন তিনি।
মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের এমএইচ৩৭০ বিমানটি ২০১৪ সালের ৮ মার্চ কুয়ালালামপুর থেকে বেইজিংয়ের উদ্দেশে যাত্রা করে। এক পর্যায়ে ২৩৯ আরোহী নিয়ে বিমানটি নিখোঁজ হয়। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর গতবছর বিমানটি খুঁজে পাওয়ার আশা ছেড়ে দেন তদন্তকারীরা।
২০১৭ সালের জানুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া ও চীনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয়। এতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না থাকায় 'অত্যন্ত দু:খের' সঙ্গে অনুসন্ধান অভিযান স্থগিতের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। উল্লেখ্য, ওই ফ্লাইটটিতে থাকা বেশিরভাগ যাত্রীই ছিলেন চীন,মালয়েশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। সূত্র: সিএনএন, রয়টার্স।








