লন্ডনে অবস্থিত ইকুয়েডরিয়ান দূতাবাসে আটক থাকতে থাকতে উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন তার আইনজীবী জেনিফার রবিনসন। তিনি বলেন, ‘আমি তার সুস্থতা নিয়ে উদ্বিগ্ন। তার শরীরে স্থায়ী ক্ষতি হচ্ছে।
বিশ্বজুড়ে ক্ষমতা উন্মোচনকারী বিকল্প সংবাদমাধ্যম উইকিলিকস এর এডিটর-ইন-চিফ জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়ে ২০১২ সাল থেকে লন্ডনে ইকুয়েডর দূতাবাসে বাস করছেন। সুইডেনে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠার পর সেবছর জুন থেকে লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাসের আশ্রয়ে আছেন তিনি। তবে ধর্ষণের অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন অ্যাসাঞ্জ। তার আশঙ্কা, সুইডেনে গেলে সুইডিশ সরকার তাকে গ্রেফতার করে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে প্রত্যর্পণ করবে। আর যুক্তরাষ্ট্র সরকার তাকে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে বিচারের নামে মৃত্যুদণ্ড দেবে।
এরমধ্যে কয়েকবার তার অসুস্থতার কথাও শোনা গেছে। সর্বশেষ তার আইনজীবী বললেন, কয়েকদিনের মধ্যে একটি চিকিৎসক দল তার দেখাশোনা শুরু করবে। আইনজীবী জেনিফার বলেন, তিনি গত চার মাস ধরে সারা বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন আছেন। কারও সঙ্গে কথা বলারও সুযোগ পাচ্ছেন না। সলিটারি কনফাইনমেন্ট এর মতো এই অবস্থা তাকে প্রায় ৬ বছর ধরে সহ্য করতে হচ্ছে।
দূতাবাসের তার স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা প্রকাশ করলেও তিনি জানান, ইকুয়েডর তাকে সুরক্ষা আর নাও দিতে পারে। ফলে তাকে আটক পাঠানো হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রে। জেনিফার বলেন, ইকুয়েডর সরকার সুরক্ষা তুলে নিতে পারে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এমন প্রতিবেদনে আমরা উদ্বিগ্ন। ব্রিটিশ ও ইকুয়েডরিয়ান সরকার কি আলোচনা করছে সেটা নিয়ে ভাবছি। আমরা সবসময়ই আশঙ্কা করি যে অ্যাসাঞ্জকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও কোনও আশাব্যাঞ্জক কথা শোনানো হয়নি।
চলতি বছরেই অ্যাসাঞ্জের ফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ কেটে দেয় দূতাবাস কর্তৃপক্ষ। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নীতিতে হস্তক্ষেপ করে এমন বার্তা আদান-প্রদান করছিলেন তিনি।
গত সপ্তাহে ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট লেনিন মরেনো জানান, জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে অবশ্যই ইকুয়েডরের লন্ডন দূতাবাস ছাড়তে হবে বলে। একই দিন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র দফতর থেকে জানানো হয়, ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্টের যুক্তরাজ্য সফরের সময়ে এই বিষয়ে কোনও আলাপ ওঠেনি। অ্যাসাঞ্জের মামলা নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে বলেও জানায় মে’র দফতর। মরেনো বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি না যে অ্যাসাঞ্জ হ্যাকার। আমরা নিশ্চিত করতে চাই যেন তার জীবনের ঝুঁকি না থাকে। আমরা তার আইনজীবী ও ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।
অ্যাসাঞ্জের আইনজীবী বলেন, ‘অ্যাসাঞ্জ ব্রিটিশ সরকারের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। তাদের বিচার মেনে নেবেন। কিন্তু মার্কিন সরকারের অবিচারের প্রক্রিয়া মুখোমুখি হবেন না তিনি।’








