এপ্রিলে অনুষ্ঠিত প্রথম ঐতিহাসিক সম্মেলনের ধারাবাহিকতায় এবার দ্বিতীয় সম্মেলন আয়োজনে উত্তরা ও দক্ষিণ কোরিয়ার উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে সোমবার আলোচনা শুরু হচ্ছে। প্রথম বৈঠকেই এই সম্মেলনের ব্যাপারে একমত হয়েছিলেন দুই দেশের শীর্ষ নেতা। দক্ষিণ কোরিয়ার একটি সংবাদপত্রকে উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষের দিকে ওই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে পারে।
চলতি বছরের এপ্রিলে উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উন ও দক্ষিণ কোরীয় প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইন পানমুনজামে এক ঐতিহাসিক বৈঠকে মিলিত হন। ওই বৈঠকেই পরবর্তী একটি বৈঠকে মিলিত হওয়ার ব্যাপারে সম্মত হন দুই নেতা। সিদ্ধান্ত হয়, আসন্ন শরতে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে। রয়টার্স জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি অঞ্চল পানমুনজামে দুই দেশের কর্মকর্তা পর্যায়ের সোমবারের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
পানমুনজামে সোমবারে কর্মকর্তা পর্যায়ের বৈঠকে দক্ষিণ কোরিয়ার নেতৃত্ব দিচ্ছেন একত্রীকরণ বিষয়ক মন্ত্রী চো মিয়োং-গিয়োন। আর উত্তর কোরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করছেন পুনরেকত্রীণ কমিটির চেয়ারম্যান রি সোন গোন। দক্ষিণ কোরিয়ার এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে দেশটির কুমকিন ইলবো সংবাদপত্র সোমবার জানিয়েছে, আগস্টের শেষ দিকে পিয়ংইয়ং-এ দুই দেশের পরবর্তী সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হতে পারে। তিনি জানিয়েছেন, সম্ভাব্য সম্মেলনের বেশিরভাগ সূচি উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সমন্বয়ের মধ্য দিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার একত্রীকরণ বিষয়ক মন্ত্রণালয় উত্তর কোরীয় মন্ত্রী রি-কে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, সম্মেলনের সাফল্যের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী। রি দক্ষিণ কোরিয়াকে বলেছেন, দুই কোরিয়ার নেতাদের মধ্যে সম্মেলন হলে, আমার বিশ্বাস আমরা সেইসব প্রশ্নের জবাব দিয়ে দিতে পারবো যার জন্য মানুষ আশা করে আছে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের বাসভবন ব্লু হাউসের এক মুখপাত্র রবিবার বলেছেন, এসব বিস্তারিত বিষয় সোমবারের বৈঠকে আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত হবে।
চলতি বছর বেশ কয়েকটি রাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্মেলনে অংশ নিয়েছে উত্তর কোরিয়া। এর মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র।
এপ্রিলের সম্মেলনের পর হঠাৎ করেই মে মাসে দুই দেশের সীমান্তে আবারও মিলিত হন কিম এবং মুন। ওই বারই দুই কোরিয়ার কোনও নেতাদের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো সাক্ষাৎ হয়। মুন যদি পিয়ংইয়ংয়ে যান তাহলে সেটিই হবে উত্তর কোরিয়ার রাজধানীতে এই বছর প্রথম কোনও দক্ষিণ কোরীয় নেতার সফর।
পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ও ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কারণে দীর্ঘদিন থেকেই আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে রয়েছে উত্তর কোরিয়া। এই বছরের জুনে সিঙ্গাপুরে এক ঐতিহাসকি বৈঠকে কিম এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কোরীয় উপত্যকায় পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে সম্মত হন।








