সাম্প্রতিক কয়েক দফা শক্তিশালী ভূমিকম্পে ইন্দোনেশিয়ার পর্যটন দ্বীপ লম্বকে মৃতের সংখ্যা ৫৫৫ জনে পৌঁছেছে। শুক্রবার দেশটির জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার মুখপাত্র পুরওয়ো নুগরোহো এক টুইটার বার্তায় হতাহতের সবশেষ সংখ্যা জানান।
গত ৫ আগস্ট ৬ দশমিক ৯ মাত্রার প্রথম ভূমিকম্প আঘাত হানে লম্বকে। হাজার হাজার ঘরবাড়ি, মসজিদ আর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্থ হয়। পরে আরও কয়েক দফায় ৬ মাত্রা বা তার চেয়েও বেশি মাত্রার ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটে। এতে সাড়ে পাঁচ শতাধিক মানুষ নিহত ছাড়াও ১৩০০ মানুষ আহত হয়েছে। অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছে প্রায় সাড়ে তিন লক্ষাধিক।
পুরওয়ো নুগরোহো জানান, বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়া এসব মানুষের মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার তাঁবু ও একশো হুইল চেয়ার বিতরণ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের কারণে প্রায় ৩৫ কোটি মার্কিন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা ও ক্যালিফোর্নিয়া ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি’র প্রযুক্তিগত তথ্য অনুযায়ী ভূমিকম্পের কারণে দ্বীপটির কোনও কোনও জায়গা ২৫ সেন্টিমিটার উপরে উঠেছে। আবার কয়েকটি এলাকার ভূমি ২৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত দেবে গেছে।
ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল রিং অব ফায়ার লাইনে অবস্থানের কারণে ইন্দোনেশিয়ায় প্রায়ই ভূমিকম্প হয়। এছাড়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত প্রবণ অঞ্চলের মধ্যে অবস্থান হওয়ায় এখানে ভূমিকম্পের ঘটনা বেশি। এই অঞ্চলে পৃথিবীর অর্ধেকেরও বেশি সক্রিয় আগ্নেয়গিরির অবস্থান রয়েছে।
২০০৪ সালে ভূমিকম্পের পর ভারত মহাসাগরে সৃষ্ট সুনামিতে ১৩টি দেশের ২ লাখ ২৬ হাজার মানুষ নিহত হয়। তার মধ্যে শুধু ইন্দোনেশিয়াতেই নিহত হয় এক লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষ।








