কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবিরে আশ্রয় নেওয়া শিশুদের জন্য দুটি স্কুল খুলেছে তুরস্কের একটি দাতব্য সংস্থা। তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়। তুর্কিভিত্তিক দাতব্য সংস্থা সাদাকাতাসি নির্মিত এই স্কুলের প্রত্যেকটিতে ৭০ জন করে শিশু পড়াশোনা করতে পারবে। ইংরেজি, আরবি ও বার্মিজ ভাষা শেখানো হবে এই কেন্দ্রতে। এছাড়া শেখানো হবে গণিত। বাচ্চারা পাবে কোরআন শেখার সুযোগও।
গত বছরের ২৫ আগস্ট নিরাপত্তা চৌকিতে আরসার হামলাকে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাবিরোধী অভিযানের কারণ বলা হলেও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, রাখাইন থেকে রোহিঙ্গাদের তাড়িয়ে দিতে এবং তাদের ফেরার সব পথ বন্ধ করতে আরসার হামলার আগে থেকেই পরিকল্পিত সেনা-অভিযান শুরু হয়েছিল। চলমান জাতিগত নিধনে হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় সাড়ে ৭ লাখ মানুষ। এক বছরেও মিয়ানমারের এই পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য কোনও পরিবর্তন ঘটেনি। এখনও আশার আলো দেখার মতো, নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী হওয়ার মতো অবস্থায় নেই বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর লাখ লাখ মানুষ।
সীমান্তের দুই পাড়ের শিশুদের চরম পরিস্থিতি নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৩ আগস্ট) মূল্যায়ন তুলে ধরে ইউনিসেফ। সেখানে সিমোন ইনগ্রাম বলেন, 'আমরা রোহিঙ্গা শিশুদের একটি প্রজন্মের ক্ষতি ও সম্ভাব্য ক্ষতির আশঙ্কা বিষয়ে কথা বলছি।' বাংলাদেশের শিবিরে থাকা রোহিঙ্গা শিশুরা রোগ ও বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে জানিয়ে জেনেভার সংবাদ সম্মেলনে সিমোন ইনগ্রাম বলেন, ‘ঝুঁকি শুধু পাঁচ লাখ শিশু বা সীমান্তের বাংলাদেশের অংশে থাকা শিশুদের নয় বরং যারা এখনও সীমান্তের ওপারে রাখাইনে রয়ে গেছে তাদের শিক্ষায় প্রবেশাধিকারও খুব সীমিত।’
এর মাঝেই তুরস্ক দুটি স্কুল চালু করলো। শনিবার মুসাব বিন উমের ও ইকরা নামের ওই দুটি কেন্দ্র ফিতা কেটে উদ্বোধন করা হয়। রোহিঙ্গাদের উদ্ধৃত করে আনাদোলু দাবি করে, রোহিঙ্গা শিবিরে এমন শিক্ষাকেন্দ্র এটাই প্রথম। এই কেন্দ্রগুলোর কাছেই রান্নাঘরে শিশুদের খাবারের ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানা যায়।








