ইসরায়েল সফর শুরু করেছেন ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুয়ার্তে। রবিবার (২ সেপ্টেম্বর) তেল আবিবের উদ্দেশে রওনা করেন তিনি। যাত্রা শুরুর আগে সাংবাদিকদের দুয়ার্তে জানান, দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা করবেন তিনি। ইসরায়েলের পাশাপাশি জর্ডানেও সফর করার কথা রয়েছে তার। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এসব কথা জানা গেছে। আঞ্চলিক সফরের অংশ হিসেবে এটি ইসরায়েলে প্রথম কোনও ফিলিপাইনি প্রেসিডেন্টের সফর।
ইসরায়েলে ফিলিপাইনের ৭৬ হাজার নাগরিক বাস করে এবং সেখানে কাজ করে। দেশটির সরকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৭ সালে ১৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার মূল্যের পণ্য ফিলিপাইনে রফতানি করেছে ইসরায়েল। রবিবার (২ সেপ্টেম্বর) তেল আবিবের উদ্দেশে যাত্রা করার আগে দুয়ার্তে বলেন, ‘আমি আজ যুগান্তকারী সফরে যাচ্ছি, যা আমাদের দেশের লক্ষ্যকে তুলে ধরবে। ফিলিপাইন বিশ্ব সম্প্রদায়ের এক দায়িত্বশীল সদস্য। ফিলিপাইন সবার বন্ধু, কারও শত্রু নয়।’
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলে সেদেশের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রেসিডেন্ট রিউভেন রিভলিনের সঙ্গে বৈঠক করবেন দুয়ার্তে। আলোচনার শীর্ষে রাখা হবে প্রতিরক্ষা, শ্রম ও পর্যটন ইস্যুকে।
ইসরায়েলের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর ব্যাপারে আগ্রহী দুয়ার্তে। ফিলিপাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক বিশেষজ্ঞ হেনেলিতো সেভিলা ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘পুলিশের পাশাপাশি আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য অস্ত্র কিনতে বিকল্প বাজার খোঁজার জন্য প্রেসিডেন্ট দুয়ার্তের এ সফর।
জেরুজালেমে ইয়াদ ভাশেম হলোকস্ট মেমোরিয়াল পরিদর্শন করবেন দুয়ার্তে। ওপেন ডোর্স মনুমেন্টও পরিদর্শন করবেন তিনি। নাৎসীদের নিপীড়ন থেকে ইহুদিদের রক্ষাকারী ফিলিপিনোদের স্মরণে এ মেমোরিয়ালটি নির্মিত হয়েছে।
২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন দুয়ার্তে। ক্ষমতায় আসার পর থেকে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন তিনি। তার মাদকবিরোধী অভিযানে নিহতের ঘটনাকে এডল্ফ হিটলারের ইহুদি নিধনের সঙ্গে তুলনা করেন। বলেন, ‘হিটলার ৩০ লাখ ইহুদিকে নিধন করেছিলেন... এখানে [ফিলিপাইন] মাদকাসক্ত মানুষের সংখ্যা ৩০ লাখ। ওদের সব কটাকে মেরে ফেলতে পারলে আমি খুশি হব।’ তিনি বলতে চান, জার্মানির জন্য যেমন হিটলার ছিলেন, তেমনি ফিলিপাইনের জন্য তিনি রয়েছেন। পরে অবশ্য ওই বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছিলেন দুয়ার্তে। গত বছরের শেষের দিকে ইসরায়েলের মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে উত্থাপিত প্রস্তাবে ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিল ফিলিপাইন।
রবিবার দুয়ার্তে বলেছেন, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত নিরসনে তিনি দ্বিরাষ্ট্র নীতিকে সমর্থন করেন। ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা দুয়ার্তের এ সফরকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
আগামী বুধবার পর্যন্ত ইসরায়েলে থাকবেন দুয়ার্তে। এরপর জর্ডান যাবেন তিনি। আম্মানে জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আব্দুল্লাহর সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে তার।








