মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলে একদল উগ্র বৌদ্ধদের হামলায় একজন রোহিঙ্গা রাখাল নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি। এছাড়া সেখান থেকে আরও একজনের লাশও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা যায়।
আরাকান রোহিঙ্গা ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন এর চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বলেন, নিহত ওই রোহিঙ্গার নাম আজিজুল হক। কোনও রকম উষ্কানি না দিলেও বৌদ্ধদের হাতে প্রাণ হারাতে হয় তাকে। গরু চড়ানোর সময় রাখাইনের কিয়কতাওয়ে এই ঘটনা ঘটে তার সঙ্গে।
গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে হামলার পর রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধসহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। খুন, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা। এই ঘটনাকে জাতিগত নিধনযজ্ঞের ‘পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ’ বলে আখ্যা দেয় জাতিসংঘ। নিরাপত্তা চৌকিতে আরসার হামলাকে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাবিরোধী অভিযানের কারণ বলা হলেও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছিলো, রাখাইন থেকে রোহিঙ্গাদের তাড়িয়ে দিতে এবং তাদের ফেরার সব পথ বন্ধ করতে আরসার হামলার আগে থেকেই পরিকল্পিত সেনা-অভিযান শুরু হয়েছিল। জাতিসংঘের করা প্রতিবেদনেও সেনাবাহিনীকে দায়ী করা হয়ে।
রবিবারের ঘটনা ২৫ বছর বয়সী আসাউদ্দিন নামের এক রোহিঙ্গার মরদেহও উদ্ধার করা হয়। নুরুল ইসলাম বলেন, আসাউদ্দিন তার মায়ের জন্য ওষুধ কিনতে পাশের গ্রামে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, রাখাইনে কোনকিছু তোয়াক্কা না করেই এই রকম হত্যাকাণ্ড চলছে।
অন্তারিও ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সির মতে, গত বছরের ২৫ আগস্ট থেকে িএখন পর্যন্ত ২৪ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা হত্যা করা হয়েছে। আগুনে নিক্ষেপ করা হয়েছে ৩৪ হাজার জনকে। ১৭ হাজার নারী শিকার হয়েছেন ধর্ষণের।
তবে এখনও রোহিঙ্গারা নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। নুরুল ইসলামের বক্তব্যে তেমনই আভাস মেলে। সর্বশেষ দুই রোহিঙ্গার হত্যাকাণ্ড ছাড়াও তাদের অন্তত ১৫টি গরু কেড়ে নিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।
এর আগে চলতি বছর মার্চ মাসে মার্কিন প্রশাসনের এক পর্যবেক্ষণে দাবি করা হয়, মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞ অব্যাহত রয়েছে। সে দেশের পররাষ্ট্র দফতরের ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিলো, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমালোচনা সত্ত্বেও চলমান নিধনযজ্ঞের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেয়নি নেপিডো।








