ভারতে সমাজের বঞ্চিত ও শোষিত শ্রেণীকে বর্ণনা করার জন্য যে 'দলিত' শব্দটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে, সেটি প্রয়োগ না-করার জন্য দেশের টিভি চ্যানেলগুলোকে পরামর্শ দিয়েছে সরকার। হাইকোর্টের দুটি সাম্প্রতিক রায়ের ওপর ভিত্তি করে ভারতের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিভিন্ন মিডিয়া হাউসের কাছে এই মর্মে অ্যাডভাইসরিও পাঠিয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির বাংলা সংস্করণের এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।
তবে দলিত সমাজের বুদ্ধিজীবীরা এর তীব্র প্রতিবাদ করছেন - তারা মনে করছেন দলিত শব্দের ওপর নিষেধাজ্ঞার অর্থ হল তাদের আত্মপরিচয়কে অস্বীকার করার চেষ্টা। ভারতে সমাজ বিজ্ঞানীদের অভিমত, দলিতরা যদি নিজেদের ওই শব্দেই বর্ণনা করতে চান তাহলে সেটাই মেনে নেওয়া উচিত।
ভারতে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার দেশ জুড়ে নানা দলিত-বিরোধী পদক্ষেপ নিচ্ছে ও দলিতদের ওপর নির্যাতনে মদত দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে। ভারতে এ বছরেই অন্তত দুটি হাইকোর্ট রায়ে বলা হয়েছিল, সংবিধানে যেহেতু দলিত শব্দটির কোনও উল্লেখ নেই তাই সেটির ব্যবহারও বাঞ্ছনীয় নয়। সেই রায়ের ওপর ভিত্তি করেই দেশের সংবাদমাধ্যমে এই শব্দটির ব্যবহার নিষেধ করতে চেয়েছে সরকার।
তবে বিজেপির দলিত এমপি উদিত রাজ মনে করেন, "দলিত শব্দটির ব্যবহার বন্ধ হলেই তাদের অবস্থা পাল্টে যাবে বিষয়টা মোটেও সেরকম নয় - আর তাই মিডিয়ারও উচিত শব্দটা ব্যবহার করে যাওয়া।"
ভারতে দলিত অধিকার আন্দোলনের প্রথম সারির নেতা ও লেখক-বুদ্ধিজীবী কানচা ইলাইয়া আবার এর মধ্যে সরকারের বিরাট দুরভিসন্ধি দেখতে পাচ্ছেন। বিবিসিকে তিনি বলছিলেন, "ভারতীয় সমাজের শোষিত ও বঞ্চিতদের অধিকারের জন্য যারা লড়ছেন, তাদের সবার জন্য দলিত শব্দটা ঐক্য ও অনুপ্রেরণার এক বিরাট উৎস হয়ে উঠেছে - আর সরকার সেটাই ভেঙে দিতে চায়।’
তিনি আরও বলেন, "তা ছাড়া দলিত হল একটা আন্তর্জাতিক কনসেপ্ট - দলিত বলতেই সারা পৃথিবী বোঝে এখানে ভারতের কোটি কোটি অস্পৃশ্য, নিপীড়িত মানুষের কথা বলা হচ্ছে। বিজেপি যে ব্রাহ্মণ্যবাদের প্রতীক - দলিত ঠিক তার বিপরীত একটা ন্যারেটিভ।"








