ভারতে বামপন্থী বুদ্ধিজীবীদের গ্রেফতারের প্রতিবাদে সোচ্চার প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক ও সমাজকর্মী অরুন্ধতী রায়। ডয়চে ভেলেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নরেন্দ্র মোদি’র সরকারকে ‘ফ্যাসিবাদী' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তিনি। ম্যানবুকার পুরস্কারজয়ী অরুন্ধতী বলেন, মোদি সরকার আইনি কাঠামোকে ব্যবহার করে বিরোধী পক্ষ, মুক্ত চিন্তার ব্যক্তি এবং সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলোর প্রতিনিধিদের ঘায়েল করতে চাইছে।
গত সপ্তাহে ভারতের পুলিশ সারা দেশে অভিযান চালিয়ে কবি ভারভারা রায়, মানবাধিকারকর্মী বার্মন গনঞ্জালভেস, লেখক-আইনজীবী অরুণ ফেরেরা, সাংবাদিক-অধিকারকর্মী গৌতম নওলাখা এবং ট্রেড ইউনিয়ন নেতা সুধা ভরদ্বাজসহ অনেককে গ্রেফতার করে। ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পুনেতে একটি রাজনৈতিক সভার পর উচ্চ বর্গীয় হিন্দুদের সঙ্গে নিম্নবর্গীয় দলিতদের সংঘাতের ঘটনা তদন্ত শুরু করে কর্তৃপক্ষ। ওই ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে এই পাঁচজনকে আটক করা হয় বলে ভারতের সরকারি বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের খবরে বলা হয়েছে। পুনে পুলিশের যুগ্ম কমিশনার শিবাজী বোড়কে বলেছেন, ‘মাওবাদীদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার' জন্য তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে পিটিআই-এর খবরে বলা হয়, ‘মাওবাদী নেতাদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ক্ষমতাসীন বিজেপি প্রেসিডেন্ট অমিত শাহ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহকে হত্যার পরিকল্পনা সম্বলিত দুটি চিঠি চালাচালি হওয়ায় অ্যাকশনে যায় পুলিশ।’ প্রখ্যাত পাঁচ ব্যক্তিকে গ্রেফতারের নিন্দা জানিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, আগামী বছরের সাধারণ নির্বাচন সামনে রেখে বিজেপি সমালোচকদের মুখ বন্ধ করার যে কৌশল নিয়েছে, তারই অংশ হিসেবে এই ধরপাকড় চালানো হচ্ছে।
এমন প্রেক্ষাপটে ডয়চে ভেলেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ম্যানবুকার পুরস্কারজয়ী অরুন্ধতী রায় বলেন, মোদি সরকার আইনি কাঠামোকে ব্যবহার করে বিরোধী পক্ষ, মুক্ত চিন্তার ব্যক্তি এবং সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলোর প্রতিনিধিদের ঘায়েল করতে চাইছে।
প্রশ্ন: সরকারবিরোধীদের সাম্প্রতিক গ্রেফতারে ভারতজুড়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সরকারের পদক্ষপ আপনি কীভাবে বর্ণনা করবেন?
অরুন্ধতী রায়: ঝাড়খণ্ড, ছত্তিশগড় ও অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যগুলোতে কয়েক হাজার মানুষ এখন কারাবন্দি। এরা এমন সব ব্যক্তি, যাদের নাম-খ্যাতি নেই, আইনজীবী নেই এবং যারা সংবাদ সম্মেলন করতে পারে না। আগে আদিবাসীদের ‘মাওবাদী' তকমা দেওয়া হয়েছে। এখন দেওয়া হচ্ছে দলিত এবং তাদের সমর্থনকারীদের। আমরা সংবিধানের বিরুদ্ধে একটি ক্যু দেখতে পাচ্ছি। এটা একটা ভয়ানক পরিস্থিতি।
প্রশ্ন: কোনও কোনও বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক কর্মী বলছেন, সরকারের সাম্প্রতিক দমনপীড়ন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্ধিরা গান্ধীর ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থা ঘোষণার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। আপনি কি একমত?
উত্তর: আমি মনে করি, এটা ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার চেয়েও পরিস্থিতি বেশি গুরুতর। সে সময় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছিল সংবিধান বাস্তবায়নের লক্ষ্যে, যদিও তাতে মানুষের অধিকার খর্ব হয়েছিল। কিন্তু এই সরকার ভারতকে একটি ‘হিন্দু রাষ্ট্র' ঘোষণার লক্ষ্যে সংবিধান লঙ্ঘন করছে, যেখানে সংখ্যালঘু এবং ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে দ্বিমতকারীদের অপরাধী বানানো হচ্ছে। সূত্র: ডয়চে ভেলে।








