মানুষের অনুপ্রবেশ বন্ধে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপের পর এবার বন্য হাতিদের প্রবেশ বন্ধ করতে চায় ভারত। এরমধ্যে ভারতের আসাম রাজ্যের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী করিমগঞ্জ জেলা প্রশাসন হাতি ঠেকানোর উদ্যোগ নিয়েছে। বাংলাদেশের বনাঞ্চল থেকে যাওয়া হাতিরা ওই জেলার বিভিন্ন এলাকায় তান্ডব চালাচ্ছে এমন দাবি করে সীমান্তে হাতি চলাচল নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নিয়েছে তারা। ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া ব্লুমস জানিয়েছে, বাংলাদেশ সীমান্তে লেবু ও বুনো মরিচ গাছ লাগানোর পরিকল্পনা করছে করিমগঞ্জ জেলা প্রশাসন।
বন্য হাতি চলাচলের পথ সুগম রাখতে করিমগঞ্জ জেলার একটি স্থানে সীমান্ত বেড়ার ৩০০ মিটারেরও বেশি জায়গা হাতিদের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখা ছিল। এই এলাকা হাতিদের করিডোর নামে পরিচিত ছিল। তবে বাংলাদেশের বনাঞ্চল থেকে যাওয়া হাতিরা জেলার বিভিন্ন স্থানে তান্ডব চালানোর পর তা বন্ধ করে দিচ্ছে ওই জেলা প্রশাসন।
রবিবার করিমগঞ্জ জেলা প্রশাসনের ডেপুটি কমিশনার প্রদীপ কুমার তালুকদারের নেতৃত্বে একটি দল সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছে। প্রদীপ কুমার বলেন, ‘দীর্ঘ কাল ধরে সীমান্ত এলাকায় হাতিদের আনাগোনা রয়েছে। হাতিরা নির্দিষ্ট একটি পথ অনুসরণ করে আর বাংলাদেশ থেকে প্রবেশ করতে তারা সীমান্ত বেড়া তছনছ করে ফেলছে। এইদিক বিবেচনায় রেখে সীমান্ত বেড়ার ৩০০ মিটারেরও বেশি জায়গা হাতিদের জন্য উন্মুক্ত রাখা ছিল। কিন্তু বন্য হাতিরা করিমগঞ্জ জেলার তান্ডব চালিয়ে কয়েকজনকে হত্যা, বাড়িঘর ও চা বাগান ধ্বংস করেছে। সেকারণে আমরা তাদের চলাফেরা বাংলাদেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে সীমান্ত এলাকায় লেবু ও বুনো ঝালের গাছ লাগানোর পরিকল্পনা করছি’।
প্রসঙ্গত, খাবারের সন্ধানে সীমান্ত এলাকা দিয়ে দুই দেশেই চলাচল করে বন্য হাতিরা। বাংলাদেশেও বিভিন্ন সময়ে বন্য হাতির আক্রমণে মানুষ নিহত হওয়া ছাড়াও বাড়িঘর ও ফসলের ক্ষেত নষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত বছর বন্যার পানিতে ভেসে ভারতের একটি বন্য হাতি বাংলাদেশে চলে আসলে তা উদ্ধারে সর্বাত্মক পদক্ষেপ নেয় বাংলাদেশ।








