আফগানিস্তানে অবস্থিত জাতিসংঘ মিশন জানিযেছে দেশটিতে ছুটির দিনে দুইটি পৃথক বিমান হামলায় অন্তত ২১ জন বেসামরিক প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৪ জনই শিশু। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।
মঙ্গলবার রাতে জাতিসংঘের আফগানিস্তান মিশন থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, আফগান ও মার্কির বাহিনীর বিমান হামলায় একই পরিবারের ১২জনসহ ২১ জন বেসামরিক নিহত হয়েছেন। রবিবার মাইদান ওয়ারদাকে আফগান সামরিক বাহিনীর অভিযানে প্রাণ হারায় ওই ১২ জন। এর মধ্যে ১০ জন শিশু ছিলো যাদের বয়স ৬ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে। তবে বিমান হামলা ন্যাটো নাকি আফগান বাহিনী চালিয়েছে সেই বিষয়ে নিশ্চিত করে বলতে পারেনি সংস্থাটি।
এছাড়া জাতিসংঘ মিশন জানায়, তারা কয়েকটি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে অভিযোগ পেয়েছে যে শনিবার কাপসিয়ায় একজন শিক্ষকের বাড়িতে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এতে করে একই পরিবারের ৯ জনের প্রাণহানি ঘটে।
আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গাফোর আহমেদ জাভেদ দাবি করেন, মাইদান ওয়ার্দাকে অভিযান চালিয়ে তালেবানদের কাছে অপহৃত আটজন আফগান সেনাকে মুক্তি করা হয়েছে। আর বেসামরিক হত্যার অভিযোগের ঘটনা দুটিই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
কাপিসা প্রদেশের হামলা নিয়ে অবশ্য এখনও আফগান কর্মকর্তাদের কাছ থেকে মন্তব্য পাওয়া যায়নি। আফগানিস্তানে দায়িত্বপালন করা মার্কিন বাহিনীর কমান্ডার গ্র্যান্ট নিলি বলেন, তারা তাদের ওয়াদাক ও কাপিসা প্রদেশের সব সামরিক অভিযানের বিষয়ে পর্যালোচনা করছে এবং নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য নেওয়ার চেষ্টা করছে।
বেসামরিক হতাহতের ঘটনায় তার দাবি, ‘আমরা এই বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকি। বেসামরিকদের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চাই আমরা।’
প্রায় ১৭ বছর ধরে চলা আফগান যুদ্ধের ইতি টানার জন্য যুক্তরাষ্ট্র তালেবান যোদ্ধাদের সঙ্গে একটি সমঝোতায় যেতে চাইছে। সমস্যা হচ্ছে তালেবানদের শর্ত নিয়ে। তালেবান যোদ্ধারা চায় সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে। আর যুক্তরাষ্ট্র চায়, তালেবান যোদ্ধাদের আফগান সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসাতে।








