জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে ফিদেল ক্যাস্ত্রো, তার ভাই রাউল ক্যাস্ত্রো, বিপ্লবী চে গুয়েভারা ও চ্যান্সেলর অব ডিগনিটি খ্যাত রাউল রোয়ার কথা স্মরণ করলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ ক্যানেল বারমুদেজ। তিনি বলেন, এই মানুষগুলো শুধু কিউবার না, বরং সমগ্র লাতিন আমেরিকা, ক্যারিবিয়ান, আফ্রিকান, এশিয়ানসহ সব মানুষৈর কথা বলেছেন যারা একটি স্বচ্ছ আন্তর্জাতিক কাঠামো চায়। ভাষণে অসম অর্থনীতির পুঁজিবাদী বিশ্বব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা হাজির করেন। পুয়ের্তো রিকোর স্বাধীনতা ও মালভিনা দ্বীপে আর্জেন্টিনার দাবির সঙ্গে একাত্মতাও প্রকাশ করেন তিনি। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকট সমাধানের পথ খোঁজার পাশাপাশি সাহারার মানুষের প্রতি সংহতির কথাও জানান দিয়াজ ক্যানেল। রুশ সীমান্তে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর সম্প্রসারণ নিয়েও কথা বলেন তিনি।
কিউবার প্রেসিডেন্ট উল্লেখ করেন, মোট জনসংখ্যার ০.৭ শতাংশ মানুষ পৃথিবীর ৪৬ শতাংশ সম্পদের মালিক। আর এখন ৩৪০ কোটি ৬০ লাখ মানুষ দারিদ্রের সঙ্গে লড়াই করছে। আর এটা সমাজবাদের কারণে হয়নি। তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট গতকালই বলেছিলেন যে পুঁজিবাদের বিশেষ করে সাম্রাজ্যবাদ ও নব্যউদারবাদের কারণে কিছু মূল্য দিতে হয়। এই ব্যবস্থানায় স্বার্থপরতা ও নিজেকে আলাদা করে নেওয়ার কারণে এই পরিস্থিতির তৈরি হয়।
দিয়াজ ক্যানেল বলেন, পুঁজিবাদের কারণেই ঔপনিবেশ শুরু হয়েছে, ফ্যাসিবাদ, বর্ণবাদ ও সন্ত্রাসবাদের সৃষ্টি হয়েছে। বেঁধেছে যুদ্ধ। পুঁজিবাদের পণ্য উৎপাদন প্রক্রিয়ার কারণে সামরিকতা বাড়ছে ও শান্তি বিনষ্ট হচ্ছে। তারা মানবিধকারও লঙ্ঘন করছে। তিনি বলেন, সবার মানবাধিকারেই নিশ্চিত করা উচিত। দারিদ্র্য, ক্ষুধা ও নিরাময়যোগ্য রোগ মোকাবিলায় আর্থিক ও প্রাযুক্তিক যথেষ্ট সক্ষমতা থাকার পরও মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে। কারণ শিল্পোন্নত দেশগুলো রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব। ২০৩০ সালকে লক্ষ্যমাত্র ধরে এসব সমস্যা সমাধানে যথেষ্ট আর্থিক সরবরাহ নেই দাবি করা হলেও ২০১৭ সালে শুধু সামরিক খাতেই ব্যয় হয়েছে ১ দশমিক ৭৪ ট্রিলিয়ন ডলার।
জলবায়ু পরিবর্তন এমন এক বাস্তবতা যা উপেক্ষা করা যায় না। এই ইস্যুতে দিয়াজ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে আগেও অন্যতম দূষণকারী ছিলো, এখনও আছে। প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে সরে এসে তারা পরবর্তী প্রজন্মের সুস্থভাবে বেঁচে থাকাকে হুমকির মধ্যে ফেলেছে। এছাড়া নিরস্ত্রীকরণের আশা করা হলেও সামরিক শক্তি বাড়ানো হচ্ছে, এই খাতে টাকা খরচ করা হচ্ছে। কিন্তু মানবাধিকার সমুন্নত রাখাতে সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি বলে যান, বর্তমান মার্কিন প্রশাসন ভেনেজুয়েলাকে বিশেষ নিষ্ঠুরতার সঙ্গে আক্রমণ করে। বলিভারিয়ান ও চাভিস্তা আন্দোলন ও ভেনিজুয়েলার সামরিক-বেসামরিক ঐক্যর প্রতি তার দেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন কিউবার প্রেসিডেন্ট। তিনি নিকারাগুয়ার সরকারকে অস্থিতিশীল করার জন্য লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভাকে কারাবন্দি করার ঘটনার নিন্দা জানান।
প্রেসিডেন্টের দাবি, নতুন মার্কিন প্রশাসন কৃত্রিম একটি রাজনৈতিক উত্তেজনার একটি পরিস্থিতি সবার সামনে তুলে ধরছেন। ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিকভাবে গড়ে ওঠা কূটনৈতিক সম্পর্কের মাধ্যম এটা করাহিচ্ছি। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অপরিহার্য উপাদানগুলোকে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে যেন কিউবার অর্থনীতি ধসে যায়। তিনি বলেন, যেকোনও দেশের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা উন্নতির প্রধান অন্তরায়। কিউবার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ মূলত কিউবার বিরুদ্ধেই পদক্ষেপ। তবে কিউবা সবসময়ই স্বাধীন ও সার্বভৌমত্বের সমান অধিকারের মাধ্যম যেকোনও দেশের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতে প্রস্তুত।








