ভূমিকম্প ও সুনামি কবলিত ইন্দোনেশিয়ার পালু শহরের একটি হোটেলের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে রয়েছেন অনেকে। রবিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর খবরে উদ্ধারকারীদের বরাতে রোয়া রোয়া নামের হোটেলটিতে ২৪ জন আটকে পড়ার কথা বলা হলেও পরে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে এক স্বেচ্ছাসেবী উদ্ধারকারী বলেছেন, এখনও সেখানে ৫০ জনের বেশি মানুষ আটকে রয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে শিশুসহ বহু মানুষের আর্তনাদ ভেসে আসছে বলে জানিয়েছেন তিনি। ঘটনাস্থল থেকে তিন জনকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ওই উদ্ধারকারী। গত শুক্রবারের এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ৮৩২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন দেশটির কর্মকর্তারা। কয়েক দফা আফটার শকের কারণে ভবনের ধ্বংসাবশেষ আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় উদ্ধারকারীরা ভারী যন্ত্রপাতির অপেক্ষায় রয়েছেন। আটকে পড়াদের আর্তনাদে সাড়া দিয়ে চেষ্টা চলছে খাবার আর পানি পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা।
২৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার ইন্দোনেশিয়ার সুলাবেসি দ্বীপে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। সেখানে কম্পনের পর আছড়ে পড়ে প্রলয়ঙ্করী সুনামির ঢেউ। সুউচ্চ ঢেউ লণ্ডভণ্ড করে দেয় উপকূলীয় এলাকা। শুক্রবারের কম্পন ও সুনামির পর শনিবার উপকূলে সন্ধান মিলেছে বহু মরদেহের।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে উদ্ধার করা মরদেহগুলো প্রাথমিকভাবে গণকবরের মতো করে মাটি চাপা দেওয়া হচ্ছে। রবিবার রাতে এমন একটি ‘গণকবরে’ অন্তত ৩০০ মরদেহ মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে জানিয়েছে তারা। রোগ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা। এর মধ্যেই পালু শহরের একটি শপিং মলের ধ্বংসস্তুপ থেকে মোবাইল ফোনের সিগনাল পাওয়ার পর রোয়া রোয়া হোটেলের ধ্বংসস্তুপের নিচ থেকে মানুষের আর্তনাদ শোনা যায়। থালিব বায়ানো নামে এক স্বেচ্ছাসেবী উদ্ধারকর্মী এএফপিকে বলেছেন, সেখান থেকে তিনজনকে উদ্ধার করা হলেও ৫০ জনেরও বেশি আটকা পড়ে রয়েছেন। তিনি বলেন, বেশ কয়েকটি জায়গা থেকে শিশুসহ অনেকের কণ্ঠ শোনা যাচ্ছে। তারা সাহায্যের জন্য আর্তনাদ করছে। কিন্তু এখনও তারা সেখানে আটকা রয়েছে। জীবন-মৃত্যুর মাঝখানে আটকা পড়ে থাকা মানুষদের সাহস যোগাতে আমরা তাদের প্রণোদনা দিচ্ছি। ওই স্বেচ্ছাসেবী বলেন, ‘আমরা তাদের খাবার ও পানি দিচ্ছি কিন্তু তারা এসব চায় না। তারা বাইরে বের হয়ে আসতে চাই। ‘আমরা বের হতে চাই, বাঁচাও, বাঁচাও ..ঠিক এটাই আমি শুনেছি’। তাদের কেউ কেউ শুধু টোকা দিচ্ছে’।
সুলাবেসি দ্বীপের প্রাদেশিক রাজধানী পালু শহরে ৩ লাখ ৫০ হাজার মানুষের বসবাস। ভূমিকম্পের পর সেখানকার চিত্র এখন ভয়াবহ। আটকে পড়া রাস্তা, ক্ষতিগ্রস্ত বিমানবন্দর এবং ভেঙে পড়া টেলিযোগাযোগ দুর্গত এলাকায় সাহায্য পৌঁছানো কঠিন করে তুলেছে।








