রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ব্যর্থ হওয়ায় মিয়ানামরের ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বিবেচনা করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইইউর তিন কর্মকর্তা বলেন, শুল্কমুক্ত সুবিধা কেড়ে নেওয়া হতে পারে মিয়ানমারের।
২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় সাত লাখের মতো মানুষ। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এ ঘটনায় খুঁজে পেয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধের আলামত। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন এই ঘটনাকে জাতিগত নিধনযজ্ঞের ‘পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ’ আখ্যা দিয়েছে। রাখাইনের সহিংসতাকে জাতিগত নিধন আখ্যা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ। তবে এইসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।
এরপর ১৬ অক্টোবর ইইউর পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে একটি রেজ্যুলেশন গৃহীত হয়। এতে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের সঙ্গে সব ধরনের সামরিক সহযোগিতা তারা পুনর্মূল্যায়ন করবে। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মারাত্মক ও কৌশলগত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জড়িত মিয়ানমার সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা’ গ্রহণের আহ্বান জানান মন্ত্রীরা।
এবার বাণিজ্য নিষধাজ্ঞা নিয়ে কথা বলছে ইউরোপীয় কমিশন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, এই নিষেধাজ্ঞায় মিয়ানমারের টেক্সটাইল শিল্প ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। ছয় মাসের পর্যালোচনাকালীন সময়েও যদি মিয়ানমার মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক লক্ষ্য পূরণ করতে পারে, তাহলে নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসতে পারে ইইউ।
আগস্টে প্রকাশিত জাতিসংঘের প্রতিবেদন প্রকাশের পর পুনরায় রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে বিশ্ব। প্রতিবেদনে বলা হয়েছিলো, মিয়ানমার সেনাবাহিনী গণহত্যা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রও মিয়ানমারের দুটি মিলিটারি ইউনিটকে নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত করে। ইইউ কর্মকর্তা জানান, এই সিদ্ধান্তের পর চাপ আসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপর।
তিনি বলেন, আমরা জনগণের ওপর প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন। কিন্তু জাতিসংঘের প্রতিবেদনকে আমরা অগ্রাহ্য করতে পারি না। তারা একে গণহত্যা বলে রায় দিয়েছে।
এখন পর্যন্ত ইইউ মিয়ানমার সেনাবাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তার ওপরে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। সম্পদও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে তাদের। তবে সেনাপ্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাংয়ের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি তারা। জাতিসংঘ জানিয়েছে, তাকেও বিচারের আওতায় আনা উচিত।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের এমন সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র জাও তায়ের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলেও রয়টার্সের ফোন রিসিভ করেননি তিনি।








