ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্প ও সুনামির পর পালু শহরের বালারোয়া ও পেতোবো এলাকার প্রায় ১ হাজার মানুষ কাদামাটির নিচে বিলীন হয়ে গেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার পক্ষ থেকে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করা ভূমিকম্প ও সুনামির পর এলাকা দুটি মাটির তিন মিটার গভীরে চলে গেছে। ভূমিকম্প পরবর্তী লিকুইফ্যাকশন (মাটির তরলীকরণ) এর কারণে মাটির অবস্থা এখনও এতোটাই কর্দমাক্ত যে তাতে উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে। এর আগে, ওই ১০০০ মানুষ নিখোঁজ থাকার কথা জানিয়েছিল সংস্থাটি। এদিকে, সুলাবেসি প্রদেশের বিভিন্ন বিধ্বস্ত এলাকার ধ্বংসাবশেষ থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহের সংখ্যা বেড়ে সাড়ে ১৫ শ’তে দাঁড়িয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এসব কথা জানা গেছে।
শুক্রবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পের পর ভয়াবহ সুনামিতে ইন্দোনেশিয়ার সুলাবেসি প্রদেশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। বড় হতে থাকে মৃত্যুর মিছিল। উদ্ধার কার্যক্রম চলমান। তবে যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় দুর্গম এলাকাগুলোতে এখনও পৌঁছাতে পারেননি উদ্ধারকারীরা। ভূমিকম্পে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পালু ও ডংগালা শহর। ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার মুখপাত্র সোতোপো পুরয়ো নুগরোহো আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, পালুর বালারোয়া ও পেতোবো এলাকায় ভূমিকম্পের পর মাটি নরম হয়ে প্রায় ১ হাজার মানুষ এর নিচে তলিয়ে গেছেন। সেখানকার মাটি এখনও নরম হয়ে আছে। উদ্ধারকারীরা ঠিকমতো উদ্ধার কাজ চালাতে পারছেন না।
নুগরোহো জানান, পেতোবো থেকে মাত্র ২৬ জন ও বালারোয়া থেকে মাত্র ৪৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখব।’
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, পালুর পার্শ্ববর্তী এলাকা বালারোয়াতে ভূমিকম্পের সময় মাটি নরম হয়ে (লিকুইফ্যাকশন) প্রায় ১৭০০ ঘর-বাড়ি দেবে গেছে।
ভূমিকম্পের প্রভাবে মাটি নরম হয়ে কাদায় রূপান্তরিত হয়। পায়ের নিচের শক্ত মাটিও তরলের মত আচরণ করে আর ঘর-বাড়ি দেবে যায়। একে লিকুইফ্যাকশন নামে ডাকা হয়।








