ইন্দোনেশিয়ায় প্রলঙ্করী ভূমিকম্প ও সুনামিতে মানবিক দুর্যোগের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। উপদ্রুত এলাকায় মৃতের সংখ্যা এরইমধ্যে হাজার ছাড়িয়েছে। পালু শহরের বালারোয়া ও পেতোবো এলাকার প্রায় হাজারখানেক মানুষ কাদামাটির নিচে বিলীন হয়ে গেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সুলাওয়েসি দ্বীপে ত্রাণ সামগ্রী লুটের দায়ে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পালুর পার্শ্ববর্তী এলাকা বালারোয়াতে ভূমিকম্পের সময় মাটি নরম হয়ে (লিকুইফ্যাকশন) প্রায় ১৭০০ ঘর-বাড়ি দেবে গেছে। ভূমিকম্পের প্রভাবে মাটি নরম হয়ে কাদায় রূপান্তরিত হয়। পায়ের নিচের শক্ত মাটিও তরলের মত আচরণ করে আর ঘর-বাড়ি দেবে যায়। একে লিকুইফ্যাকশন নামে ডাকা হয়।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় দুর্যোগ সংস্থার একজন মুখপাত্র জানান, এখনও অনেকে কাদা-মাটির নিচে চাপা পড়ে আছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় দুর্গত এলাকায় পৌঁছে তাঁদের উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি জানান, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানসহ অন্যান্য দেশের ১১টি বিমান ত্রাণ বিতরণে কাজ করছে।
দুর্গতদের কাছে ত্রাণ পৌঁছাচ্ছে খুব ধীর গতিতে। প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে কিছু কিছু দোকান দুর্গতদের জন্য খুলে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তারা বলছেন, দোকান মালিকদের ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়া হবে। ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত পালু'র বিমানবন্দরটি চালু হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। পালুতে আহতদের উদ্ধারে সাহায্য করছে সেনাবাহিনী। হেলিকপ্টারের সাহায্যে চলছে উদ্ধার কাজ। এদের মধ্যে রয়েছে একদল শিক্ষার্থী, যাদের মেদান শহরে একটি ইসলামি প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল।
৭০ হাজার মানুষ এখনও আশ্রয়শিবিরে অবস্থান করছেন। যারা ঘর-বাড়ি হারিয়েছেন, তাঁরা কবে নিজেদের আবাসে ফিরতে পারবেন তা এখনও নিশ্চিত নয়।
২৮ সেপ্টেম্বর ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পের পর ভয়াবহ সুনামিতে ইন্দোনেশিয়ার সুলাবেসি প্রদেশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। বড় হতে থাকে মৃত্যুর মিছিল। উদ্ধার কার্যক্রম চলমান। তবে দুর্গম এলাকাগুলোতে এখনও পৌঁছাতে পারেননি উদ্ধারকারীরা। জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছে, ভূমিকম্প ও সুনামিতে ‘সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত’ এলাকার একটি বড় অংশেই পৌঁছাতে পারেননি উদ্ধারকারীরা। ভূমিধসের কারণে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় দুর্গম এলাকায় পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।
ভূমিকম্পের এক সপ্তাহ পরে পালু শহরে বিদ্যুৎ ফিরে এসেছে। কয়েকটি দোকানও খুলেছে আবার। শহরটিতে ৩ লাখ ৭০ হাজার মানুষের বসবাস। এখন পর্যন্ত ভূমিকম্পে ১৪০০ এরও বেশি মানুষের নিহতের খবর পাওয়া গেছে।
পালুতে উদ্ধার কাজে অংশ নেওয়া ত্রাণ স্বেচ্ছাসেবী ফ্রিদা সিন্তা বলেন, এই দুর্যোগে অনেক চ্যালেঞ্জ। এর আগে কখনোই এত কঠিন পরিস্তিতিতে পরতে হয়নি।
রাজধানী জাকার্তা থেকে ১৫০০ কিলোমিটার দূরবর্তী এই শহরে ক্ষুধার যাতনায় ত্রাণবাহী গাড়ি ও বিভিন্ন দোকানে লুটপাট চালাচ্ছে তারা।সিন্তা বলেন, গাড়ি কিংবা মোটরবাইকে আমরা যেভাবে পারছি ত্রাণ পৌঁছাচ্ছি। কিন্তু সেটা পর্যাপ্ত নয়।
ভূমিকম্প ও সুনামিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পালু ও ডংগালা এলাকা। পালু এলাকায় ব্যাপকভাবে উদ্ধার তৎপরতা চললেও ডংগালা খুব একটা মনযোগ পাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। এক ত্রাণকর্মী ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘সরকার সেখানে পৌঁছাতে পারেনি। সেখানকার সবাই খাদ্য ও পানির জন্য মরিয়া হয়ে আছে। সেখানে খাবার, পানি ও জ্বালানি নেই।’ মরিয়া হয়ে অনেকে দোকানে লুটপাট চালাচ্ছে। পুলিশ লুটপাট ঠেকাতে দোকান পাহারা দিচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, ডংগালার ৩ লাখ ১০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সূত্র: ডি ডব্লিউ, আল জাজিরা।








