ভূমিকম্প ও সুনামির পর ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট অঙ্গীকার করেছিলেন, হতাহতদের সবাইকে খুঁজে বের করা হবে। তবে এটি আদতে সম্ভব হবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। উদ্ধার তৎপরতায় জড়িত সংস্থাগুলো মনে করছে, যে অবস্থার মধ্যে তাদের কাজ করতে হচ্ছে, তাতে এটি বেশ সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট খবর দিয়েছে, এমন বাস্তবতায় ইন্দোনেশীয় কর্তৃপক্ষ ভূমিকম্প বিধ্বস্ত এলাকাকেই গণকবরে রূপান্তর করার কথা ভাবছে। ভূমিকম্প ও সুনামির পর এ পর্যন্ত ১৬৪৯ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে সরকার। দেশটির নিরাপত্তামন্ত্রী উইরান্টো বলেছেন, নিখোঁজদের খোঁজে চলমান অভিযান থামিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
২৮ সেপ্টেম্বরের (শুক্রবার) ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ওই ভূমিকম্পে নরম মাটি কাঁদায় পরিণত হয়। ভাসিয়ে নিয়ে যায় বাড়িঘর। আশঙ্কা করা হচ্ছে শত শত মানুষ মাটির নিচে চাপা পড়েছে। ভূমিকম্প বিধ্বস্ত পালুতে যে পরিমাণ মরদেহের স্তুপ তৈরি হচ্ছে তার সৎকার নিয়েই হিমশিম খাচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তারা। এর আগে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র সুতোপো পুরও নুগরোহো জানিয়েছিলেন আপাতভাবে মরদেহগুলিকে গণকবরে মাটি চাপা দেওয়া হবে। জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে দ্রুতভাবে সেখানকার একটি কবরস্থানে একদিনেই ৩০০টি মরদেহ মাটি চাপা দেওয়া হয়। সরকারি হিসেবে নিহতদের একটা বড় অংশকে এরইমধ্যে অস্থায়ী গণকবরে সমাধিস্থ করা হয়েছে।
বালারোয়া এলাকায় মুসলিমদের একটি কবরস্থানে মৃতদেহ ভর্তি সাদা ব্যাগ সারি দিয়ে রাখা রয়েছে। আর শোকগ্রস্থ স্বজনেরা তা পাহারা দিচ্ছেন। তাদের মধ্যে ছিলেন ৩৯ বছর বয়সী রুদি রহমান। তিনি জানান, তার ১৮ ও ১৬ বছরের দুই ছেলের মরদেহ পাওয়া গেলেও এখনও নিখোঁজ রয়েছে ছোট ছেলেটি। তিনি বলেন মসজিদের উল্টো পাশে আমার ভাইয়ের বাড়ির সামনে তাদরে তাদের পাওয়া যায়। পরস্পরকে ধরে রেখেছিল তারা। দুই ভাই যেন গলাগলি করে ছিল। ভূমিকম্প যখন আঘাত হানে তখন শিশুই কোরআন পড়ার জন্য মসজিদে ছিল। মসজিদের ইমামের একজন সহকারী জানান, তাদের কেউই বেঁচে নেই।
ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো ঘোষণা দিয়েছিলেন সব হতাহতকেই খুঁজে বের করা হবে। তবে পম্পিয়ার্স হিউমানিটিস ফ্রান্সিস রেসকিউ অর্গানাইজেশন নামে একটি সাহায্য সংস্থার কর্মকর্তা আর্নড অ্যালিবার্ট মনে করছেন, সব মরদেহ খুঁজে বের করতে চার থেকে পাঁচ মাস সময় লাগতে পারে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তিনি বলেন, আমরা শরীরের কোনও অংশ দেখতে পেলে তার আশেপাশের পুরোটা খুঁড়ে সেই শরীরটি বের করতে হচ্ছে। এতে অনেক সময় লাগছে কিন্তু তারপরই ভারী যন্ত্রপাতি আনা হবে। তিনি বলেন, এক্সকাভেটর (মাটি সরানোর যন্ত্র) একবারে বেশি মাটি সরাতে পারছে না কারণ এর নিচে মৃতদেহ রয়েছে। সতর্কতার সঙ্গে মাটি সরাতে হচ্ছে।
সংকটপূর্ণ উদ্ধার অভিযানের এই বাস্তবতায় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইউরান্টো বলেছেন, কেবল পালু শহরেই ২৬৫ জনের নিখোঁজ রয়েছেন। তারপরও আমরা মরদেহ উদ্ধারে চলমান অভিযান থামিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে নিখোঁজের স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করছি।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তার সমন্বয়কের কার্যালয় জানিয়েছে, ইন্দোনেশিয়ায় তাৎক্ষনিক জীবন রক্ষাকারী ত্রাণ কার্য পরিচালনার জন্য প্রায় তিন কোটি ৮০ লাখ ইউরো প্রয়োজন। ব্রিটেনের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী জানিয়েছেন মাঠ পর্যায়ে ত্রাণ বিতরণের জন্য তারা ৩০ লাখ ইউরো অনুমোদন করেছেন। ইন্দোনেশিয়ার জরুরি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির ডাকে সাড়া দিয়ে বিট্রেনের রাণী তাদের তহবিলে ব্যক্তিগত অনুদান পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছে বাকিংহাম প্যালেস।








