অভিবাসন প্রত্যাশীদের তীর্থভূমি হিসেবে পরিচিত ইতালির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রায়েস থেকে অভিবাসীদের সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পরের সপ্তাহে অভিবাসীদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি শরণার্থীদের অভিবাসন সুবিধা দিতে তাদের সঙ্গে স্থানীয়দের বিয়ে দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার ও গৃহবন্দী হন সেখানকার মেয়র ডমেনিকো লুকানো। সেই ধারাবাহিকতায় এবার অভিবাসীদের শহরটিতে থেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা এলো। গত কয়েক মাস ধরে অভিবাসন প্রশ্নে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইতালির সরকার।
মূলত মিম্মো নামে পরিচিত রায়েসের মেয়র ডমেনিকো লুকানোর প্রচেষ্টাতেই অভিবাসীদের স্বর্গভূমি হয়ে ওঠে রায়েস। বিগত সরকারের সময়ে ১৯৯৮ সালে অভিবাসীদের স্বার্থে বিরল কর্মসূচি গ্রহণ করে বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হন তিনি। ওই কর্মসূচির আওতায় জনবিরল কালাব্রিরা শহরের পরিত্যক্ত ঘরগুলো অভিবাসীদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। বিভিন্ন ধরনের কাজের প্রশিক্ষণ দিয়ে অভিবাসীদের মাধ্যমেই সেখানকার অর্থনীতির পুনরুজ্জীবন ঘটানোর পদক্ষেপ নিয়েছিলেন মিম্মো। তখন থেকে প্রায় দুই হাজার মানুষের শহরটিতে শত শত অভিবাসী বসবাস শুরু করে। গত ২ অক্টোবর মিম্মোকে গ্রেফতারের পর বিক্ষোভের পাশাপাশি ওই কর্মসূচি নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে বিতর্ক শুরু হয়। গত জুনে ক্ষমতায় আসা ইতালির নতুন সরকার দেশটিতে অভিবাসন বন্ধের পদক্ষেপ নিয়েছে।
তবে ৯ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রস্তাবে রায়সের অভিবাসন প্রকল্প বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়। ইউরোসেপ্টিক লিগ পার্টির অভিবাসনবিরোধী বিভাগের প্রধান ম্যাথও সালভানির নেতৃত্বে ওই প্রস্তাব আনা হয়। তিনি শনিবার এক টুইটার বার্তায় বলেন, তার দেশ ‘জনগণ তহবিলে অনিয়ম সহ্য করতে চায় না, এমনকী সেটা অভিবাসীদের স্বার্থে ব্যয়ের কথা বলে করা হলেও না’।
মেয়র লুকানোর বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগ তিনি অভিবাসন নীতিকে ঘিরে সুবিধা পেতে বিয়ের আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। প্রসিকিউটররা বলছেন তারা লুকানোর ফোনে আঁড়ি পেতেছিলেন। এতে অন্তত একটি কলে মেয়র এক নারী অভিবাসীর সমস্যা সমাধানে বিয়ের পরামর্শ দিয়েছেন বলে প্রমাণ পেয়েছেন তারা। প্রকাশ্য টেন্ডার ছাড়া দুটি কোম্পানিকে ময়লা সংগ্রহের কাজ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে মেয়রের বিরুদ্ধে। এর সঙ্গেও শহরের অভিবাসন কর্মসূচির সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতালির সংবাদপত্র লা রিপাবলিকা বলছে, কমিউনিটি সমিতির মাধ্যমে ‘রায়েসের বাসিন্দা ও অভিবাসীদের কাজের সুযোগ দিতে’ ওই দুটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা হয়। এদিকে সরকার সমালোচকদের একাংশ বলছে, মেয়রের একমাত্র অপরাধ ‘মানবতা’।
মেয়র লুকানো বলছেন, তার আটকাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করবেন তার আইনজীবীরা। তার অভিযোগ ‘সরকার আমাদের ধ্বংস করতে চায়’। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে তিনি বলেছেন, ‘অসংখ্য মানুষ, রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবী ও শিল্পী যে রায়েস মডেলকে একটি অসাধারণ অভিজ্ঞতা বলে বর্ণনা করেছেন সেই মডেলকে ধ্বংসের চিন্তা করা কিভাবে সম্ভব হতে পারে।’








