আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রতি বিষোদগার ‘বুদ্ধিস্ট বিন লাদেন’-এর

বিদেশ ডেস্ক
১৫ অক্টোবর ২০১৮, ১১:৪৬আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০১৮, ১৩:০৫
image

রোহিঙ্গা সংকটে মিয়ানমারের জেনারেলদের বিচারের মুখোমুখি করার দাবি তোলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমালোচনা করেছেন সে দেশের উগ্র বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদী একজন নেতা। ‘বুদ্ধিস্ট বিন লাদেন’ খ্যাত উইরাথু মিয়ানমারের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের একজন মুখপাত্র হিসেবে সেনাবাহিনীর সমর্থনে অনুষ্ঠিত এক মিছিলে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। সে সময় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিরুদ্ধেও বিষোদগার করেন উইরাথু। মিছিলে দেওয়া বক্তৃতায় মিয়ানমারকে সমর্থনকারী রাশিয়া আর চীনের প্রশংসা করেছেন তিনি।
মিয়ানমারের উগ্র জাতীয়তাবাদী নেতা উইরাথু

আইসিসির প্রসিকিউটর ফাতো বেনসুদার করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৬ সেপ্টেম্বর নেদারল্যান্ডসের হেগে সংস্থাটির তিনজন বিচারকবিশিষ্ট প্রি-ট্রায়াল কোর্ট মিয়ানমারের বিচারের পক্ষে রায় দেন। রায়ে বলা হয়, মিয়ানমার এই আদালতের সদস্য না হলেও বাংলাদেশ এর অন্যতম সদস্য দেশ। তাই এ ঘটনার বিচার করার এখতিয়ার আদালতের রয়েছে। কারণ, আন্তঃসীমান্ত অনুপ্রবেশের ধরনের জন্যই এই বিচার সম্ভব। এই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় এরইমধ্যে অধিকতর তদন্ত শুরু করেছেন আইসিসির প্রসিকিউটররা।

গত বছর ‘বুদ্ধিস্ট বিন লাদেন’ খ্যাত উইরাথুর জনসম্মুখে কথা বলার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। জেষ্ঠ্য সন্ন্যাসীদের এক কাউন্সিল ‘ঘৃণাযুক্ত বক্তব্য’ প্রচারের অভিযোগে তার ওপর ওই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। মার্চে সেই নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়। রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ আখ্যা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়িয়ে গেছেন উইরাথু। ফেসবুকও তাকে নিষিদ্ধ করেছিল। রবিবার সেনা-সমর্থনে অনুষ্ঠিত মিছিলে তিনি বলেন, ‘আইসিসি যেদিন এখানে ঢুকবে.. সেদিন থেকেই আমি একটি বন্দুক নিয়ে দাঁড়িয়ে যাব’।

মিয়ানমার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সনদে স্বাক্ষর করেনি। সে কারণে সরাসরি সে দেশে সংঘটিত অপরাধ বিচারের এখতিয়ার আইসিসির নেই। সনদে স্বাক্ষর না করা দেশকে আইসিসি তখনই বিচারের আওতায় নিতে পারে, যখন নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে সুপারিশ করা হয়। তবে মিয়ানমারের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত এসেছে আইসিসির পক্ষ থেকে। বাংলাদেশের সঙ্গে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট হওয়ায় সেখান থেকে বিচারিক এখতিয়ার পেয়েছে আইসিসি।
এরআগে নিরাপত্তা পরিষদ থেকে মিয়ানমারকে বিচারের মুখোমুখি করার একাধিক প্রচেষ্টায় বাধা হয়ে দাঁড়ায় চীন আর রাশিয়া। ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের কারণে তারা মিয়ানমারকে বিচারের মুখোমুখি করতে চায় না। ‘বুদ্ধিস্ট বিন লাদেন’ খ্যাত উইরাথু সেই রাশিয়া আর চীনকে জাতীয়তাবাদী জোট আখ্যা দিয়ে বলেন, তারা সত্যের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। মিছিলে দেওয়া বক্তৃতায় তিনি হুঁশিয়ার করেন,  ‘মিয়ানমারের ইসলামীকরণ ঘটাতে বাঙালিদের রোহিঙ্গা বানিয়ে বিশ্বকে মিথ্যা তথ্য দেবেন না’।

 

/এফইউ/বিএ/
সম্পর্কিত
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতা কে এই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম