রোহিঙ্গা সংকটে মিয়ানমারের জেনারেলদের বিচারের মুখোমুখি করার দাবি তোলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমালোচনা করেছেন সে দেশের উগ্র বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদী একজন নেতা। ‘বুদ্ধিস্ট বিন লাদেন’ খ্যাত উইরাথু মিয়ানমারের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের একজন মুখপাত্র হিসেবে সেনাবাহিনীর সমর্থনে অনুষ্ঠিত এক মিছিলে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। সে সময় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিরুদ্ধেও বিষোদগার করেন উইরাথু। মিছিলে দেওয়া বক্তৃতায় মিয়ানমারকে সমর্থনকারী রাশিয়া আর চীনের প্রশংসা করেছেন তিনি।
আইসিসির প্রসিকিউটর ফাতো বেনসুদার করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৬ সেপ্টেম্বর নেদারল্যান্ডসের হেগে সংস্থাটির তিনজন বিচারকবিশিষ্ট প্রি-ট্রায়াল কোর্ট মিয়ানমারের বিচারের পক্ষে রায় দেন। রায়ে বলা হয়, মিয়ানমার এই আদালতের সদস্য না হলেও বাংলাদেশ এর অন্যতম সদস্য দেশ। তাই এ ঘটনার বিচার করার এখতিয়ার আদালতের রয়েছে। কারণ, আন্তঃসীমান্ত অনুপ্রবেশের ধরনের জন্যই এই বিচার সম্ভব। এই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় এরইমধ্যে অধিকতর তদন্ত শুরু করেছেন আইসিসির প্রসিকিউটররা।
গত বছর ‘বুদ্ধিস্ট বিন লাদেন’ খ্যাত উইরাথুর জনসম্মুখে কথা বলার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। জেষ্ঠ্য সন্ন্যাসীদের এক কাউন্সিল ‘ঘৃণাযুক্ত বক্তব্য’ প্রচারের অভিযোগে তার ওপর ওই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। মার্চে সেই নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়। রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ আখ্যা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়িয়ে গেছেন উইরাথু। ফেসবুকও তাকে নিষিদ্ধ করেছিল। রবিবার সেনা-সমর্থনে অনুষ্ঠিত মিছিলে তিনি বলেন, ‘আইসিসি যেদিন এখানে ঢুকবে.. সেদিন থেকেই আমি একটি বন্দুক নিয়ে দাঁড়িয়ে যাব’।
মিয়ানমার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সনদে স্বাক্ষর করেনি। সে কারণে সরাসরি সে দেশে সংঘটিত অপরাধ বিচারের এখতিয়ার আইসিসির নেই। সনদে স্বাক্ষর না করা দেশকে আইসিসি তখনই বিচারের আওতায় নিতে পারে, যখন নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে সুপারিশ করা হয়। তবে মিয়ানমারের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত এসেছে আইসিসির পক্ষ থেকে। বাংলাদেশের সঙ্গে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট হওয়ায় সেখান থেকে বিচারিক এখতিয়ার পেয়েছে আইসিসি।
এরআগে নিরাপত্তা পরিষদ থেকে মিয়ানমারকে বিচারের মুখোমুখি করার একাধিক প্রচেষ্টায় বাধা হয়ে দাঁড়ায় চীন আর রাশিয়া। ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের কারণে তারা মিয়ানমারকে বিচারের মুখোমুখি করতে চায় না। ‘বুদ্ধিস্ট বিন লাদেন’ খ্যাত উইরাথু সেই রাশিয়া আর চীনকে জাতীয়তাবাদী জোট আখ্যা দিয়ে বলেন, তারা সত্যের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। মিছিলে দেওয়া বক্তৃতায় তিনি হুঁশিয়ার করেন, ‘মিয়ানমারের ইসলামীকরণ ঘটাতে বাঙালিদের রোহিঙ্গা বানিয়ে বিশ্বকে মিথ্যা তথ্য দেবেন না’।








