নিরাপত্তা হুমকি সত্ত্বেও শনিবার দীর্ঘ বিলম্বিত পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভোট দিয়েছে আফগানিস্তানের ভোটাররা। দেশটির সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী তালেবান এই নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানিয়েছিল। তালেবান হুমকি সত্ত্বেও স্থানীয় সময় সকাল সাতটার শুরু হওয়া নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হয় বিকাল চারটায়। প্রায় ৯০ লাখ নিবন্ধিত ভোটার এই নির্বাচনে ভোট দেবে বলে কর্তৃপক্ষ আশা করছে। আফগানিস্তানের ৩৩টি প্রদেশের ৫১০০ ভোট কেন্দ্রের ২১ হাজার বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
২০০১ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের আগ্রাসনে তালেবান সরকারের পতনের পর এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২০১৫ সালে প্রথম এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা ছিল। তবে নিরাপত্তা আশঙ্কা ও ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়া স্থগিত হওয়ার কারণে বারবার পিছিয়েছে তা। ভোটের দিনে নিরাপত্তা একটি বড় ইস্যু হিসেবে সামনে এসেছে। গত সেপ্টেম্বরে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হলে কমপক্ষে দশজন প্রার্থী নিহত হয়েছে। অপহরণের শিকার হয়েছে আরও দুইজন। তালেবান হামলায় শীর্ষ কর্মকর্তারা নিহত হওয়ার জের ধরে স্থগিত করা হয়েছে কান্দাহার প্রদেশের ভোটগ্রহণ।
আফগান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভোটের দিনে নিরাপত্তার জন্য ৭০ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। রাজধানী কাবুলে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের প্রবল উপস্থিতি দেখা গেছে। যানবাহনে তল্লাশি ছাড়াও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে কয়েকটি রাস্তা। শহরের নবম জেলায় ভোরেই লাইনে দাঁড়াতে শুরু করেন ভোটাররা। বেশিরভাগ ভোটারই বলেছেন কোনও ধরেনর সমস্যা ছাড়াই ভোট দিয়েছেন তারা।
৬০ বছর বয়সী আলী শাহ বলেন, ভোট দিতে প্রায় ৩০ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম। ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া খুব সহজ আর আমি খুশি। সার্বিকভাবে আমি চলমান প্রক্রিয়ায় খুশি, তবে যা ঘটে তা দেখার অপেক্ষায় আছি।
ভোটগ্রহণ শুরুর কয়েক ঘণ্টা পর বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। কাবুলের আল ফাতাহ হাই স্কুল কেন্দ্রের বাইরে ভোটপ্রদানের অপেক্ষায় ছিলেন লতিফা আমরখিল নামের এক চিকিৎসক। তিনি বলেন, আমরা প্রায় এক ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছি আর এখনও ভোটগ্রহজণ শুরু হয়নি। তারা বলেছে, ভোটগ্রহণ সামগ্রী এখনও এসে পৌঁছায়নি। এক প্রার্থীর এজেন্ট খালিদ আমেল বলেন, ইলেক্ট্রনিক ভোটিং ম্যাশিন নিয়েও কিছু সমস্যা আছে। তিনি বলেন, বায়োমেট্রিক পদ্ধতেও কিছু সমস্যা আছে। এটা কোনও কোনও আঙ্গুলের ছাপ নিচ্ছে না। সময়সূচি অনুযায়ী প্রক্রিয়া চালানো যাচ্ছে না। ভোটকেন্দ্র ছোট আর বিপুল সংখ্যক মানুষের ভোট নিতে হবে।
শনিবার নির্বাচন কমিশন উপ মুখপাত্র জবিউল্লাহ সাদাত বলেন, ‘নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব আমাদের। আর সরকারের দায়িত্ব নিরাপত্তা দেওয়ার।’ পুরোদেশে ভোট গ্রহণ না হলেও সাদাত বলেন এই নির্বাচনের ফলাফল হবে বৈধ এবং নির্বাচন হবে অবাধ এবং নিরপেক্ষ। তিনি বলেন, স্বচ্ছ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আমরা যথেষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছি। নির্বাচন হবে অবাধ এবং নিরপেক্ষ।
বৃহস্পতিবার তালেবানের হামলায় কান্দাহার প্রদেশের গভর্নর, পুলিশপ্রধান ও গোয়েন্দাপ্রধানের মৃত্যুতে সেখানকার নির্বাচন এক সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় ভোট হবে না গজনিতেও। প্রদেশটির বেশিরভাগ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে তালেবান।
এই নির্বাচনকে ভুয়া আখ্যা দিয়েছে তালেবান। গোষ্ঠীটির মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ গত সপ্তাহে এক বিবৃতিতে বলেন, ‘যারা নিরাপত্তা দিয়ে এই নির্বাচন সফলভাবে অনুষ্ঠানে সহায়তা করছে তারাও লক্ষ্যবস্তু হবে এই নির্বাচন প্রতিরোধ ও ব্যর্থ করে দেওয়ার কোন চেষ্টাই বাকি রাখা হবে না।’
আফগানিস্তানের ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইলেকশন কমিশনের (আইইসি) তথ্য অনুযায়ী ২৫০টি সংসদীয় আসনের বিপরীতে দুই হাজার ৫৬৫জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে ৪১৭ জনই নারী। তবে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী মাত্র ২০৫ জন। বা মাত্র আট শতাংশ। বাকিরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
ভোটগ্রহণ শেষ হলে পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে ভোট গণনা শেষ হবে। ফলাফল ঘোষণার কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করেনি নির্বাচন কমিশন। তবে প্রাথমিক ফলাফল পেতে প্রায় একমাস লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।








