প্রধানমন্ত্রী বিক্রমসিংহেকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর সৃষ্টি হওয়া সংকট ক্রমেই সহিংস হয়ে উঠছে। রবিবার বহিস্কৃত মন্ত্রিসভার এক সদস্যের দেহরক্ষী বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি ছুঁড়লে অন্তত একজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও দুইজন। ভারতের সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া এই খবর জানিয়েছে।
শুক্রবার প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা শ্রীলঙ্কার ক্ষমতাসীন জোট থেকে ইউনাইটেড পিপল’স ফ্রিডম অ্যালায়েন্সকে সরিয়ে নিলে সংকটের সূচনা হয়। ক্ষমতাসীন জোটের নেতৃত্বে ছিলেন বহিস্কৃত প্রধানমন্ত্রী রানিলে বিক্রমাসিংহে। ওই দিনই সিরিসেনা চারবারের প্রধানমন্ত্রী রানিলা ও মন্ত্রিসভাকে বরখাস্ত করে প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসেকে দায়িত্ব দেন। রানিলের মন্ত্রিসভার সদস্যরা এই ঘটনাকে অগণতান্ত্রিক ক্যু বলে আখ্যায়িত করেছেন।
দেশটির পুলিশের মুখপাত্র রুয়ান গুনাসেকেরা বলেছেন, রবিবার কলম্বোয় বরখাস্তকৃত মন্ত্রিসভার জ্বালানি মন্ত্রী অর্জুনা রানাতুঙ্গা রাষ্ট্রায়ত্ব সাইলন পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনে নিজের কার্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাকে বাধা দেয় প্রেসিডেন্ট সিরিসেনার সমর্থকরা। এসময় তাদের লক্ষ্য করে পাঁচ রাউন্ড গুলি ছোঁড়েন রানাতুঙ্গার এক দেহরক্ষী। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
পুলিশের মুখপাত্র বলেছেন, ঘটনার পর ওই দেহরক্ষীকে আটক করা হয়েছে। মন্ত্রী রানাতুঙ্গা নিরাপদ থাকলেও ওই দেহরক্ষীর উদ্দেশ্য তাৎক্ষনিকভাবে পরিস্কার হওয়া যায়নি।
শনিবার রাজাপাকসের পক্ষে সমর্থন বাড়াতে ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত পার্লামেন্ট স্থগিত রাখার ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা। বিক্রমাসিংহের মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিজেদের কার্যালয়ে প্রবেশ ঠেকানো ঘোষণা দেয় রাজাপাকসের সমর্থিত রাজনৈতিক দল সংশ্লিষ্ট ট্রেড ইউনিয়ন। ওই ঘোষণার পর গুরুত্বপুর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। তা সত্ত্বেও রবিবার এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটলো।
এদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মিত্রদের নিয়ে কলম্বোর একটি বাড়িতে বৈঠকে বসেছেন বরখাস্তকৃত প্রধানমন্ত্রী রানিলে বিক্রমাসিংহে। ওই বৈঠকে তার প্রায় দশ হাজার সমর্থক অংশ নিয়েছেন।








