কৃষ্ণসাগরের ওপরের আকাশসীমা দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় মার্কিন নৌবাহিনীর একটি বিমানের পথরোধ করে তাকে দূরে সরে যেতে বাধ্য করেছে একটি রুশ ফাইটার জেট। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা মার্কিন বিমানটিকে ‘সব ধরনের সতর্কতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা মেনে’ নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, বিমানটি আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় অবস্থান করছিলো। ‘অনিরাপদ ও অপেশাদার’ কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে একে প্রতিহত করা হয়েছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কৃষ্ণসাগরের উপর রাশিয়ার আকাশসীমার কাছে মার্কিন সামরিক বিমানের পথরোধ করে তাকে দূরে সরে যেতে বাধ্য করেছে রুশ জঙ্গিবিমান। রাশিয়ার একটি এসইউ-২৭ জঙ্গিবিমান মার্কিন নৌ বাহিনীর ইপি-৩ই অ্যারাইজ বিমানের পথরোধ করে তাকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে দেয়। তবে মার্কিন নৌবাহিনী বলেছে, সোমবার তাদের ওই নজরদারি বিমানটি কৃষ্ণসাগরের আন্তর্জাতিক আকাশসীমা দিয়ে ওড়ার সময় রাশিয়ার একটি যুদ্ধবিমান সেটির যাত্রাপথে বাধা দেয়।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে রাশিয়ার বার্তা সংস্থাগুলো বলছে, তাদের এসইউ-২৭ বিমানটি ‘নিরাপদ দূরত্ব থেকে’ নজরদারির কাজে ব্যবহৃত মার্কিন ওই সামরিক বিমানটিকে রাশিয়ার আকাশসীমার দিকে অগ্রসর হতে দেখে। দায়িত্বপ্রাপ্ত গোয়েন্দা ইউনিটের সঙ্গে যোগাযোগের পর জঙ্গিবিমানটি ওই মার্কিন বিমানকে ‘সব ধরনের সতর্কতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা মেনে’ পাহারা দিয়ে রুশ আকাশসীমার বাইরে নিয়ে যায়।রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, ওই মার্কিন বিমানটি তার যাত্রাপথ বদলে রাশিয়ার আকাশসীমা থেকে সরে গেলে এসইউ-২৭ও ঘাঁটিতে ফিরে যায়। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের তিন কর্মকর্তা ও সে দেশের নৌ-বাহিনী এক যৌথ বিবৃতিতে দাবি করেছে, বিমানটিকে ‘অনিরাপদ ও অপেশাদারীভাবে’ প্রতিহত করা হয়েছে। ২৫ মিনিট সময় ধরে চলা ওই ঘটনায় রাশিয়ার আচরণ পেশাদারী ছিলো না।
রাশিয়ার জঙ্গিবিমানটি তাদের নজরদারি বিমানের পথরোধ করে সামনে দিয়ে বেশ দ্রুতগতিতে উড়ে যায় বলে দাবি মার্কিন নৌবাহিনীর; এ ধরনের কর্মকাণ্ড তাদের বিমানটির পাইলট ও বিমানের ক্রুদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছিল বলেও অভিযোগ তাদের। পেন্টাগন বলছে, তাদের বিমানটি সেসময় রুটিন কার্যক্রমে ছিল এবং এ সময় রাশিয়াকে কোনো ধরনের উসকানি দেওয়া হয়নি। সোমবার পেন্টাগনের মুখপাত্র এরিক পাহন সাংবাদিকদের বলেন, রাশিয়ার ওই জঙ্গিবিমান ইপি-৩ই উড়োজাহাজের ‘খুব কাছে চলে এসেছিল’। মার্কিন ও রুশ বিমান দুটির মধ্যে কোনো ধরনের যোগাযোগ হয়নি এবং এ মুখোমুখি অবস্থা প্রায় ২৫ মিনিট ধরে চলেছিল বলেও জানান তিনি ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার কৃষ্ণসাগরের ওপর দিয়ে আন্তর্জাতিক আকাশসীমা অতিক্রম করছিলো মার্কিন বিমানটি। সেসময় সরাসরি দ্রুতগতিতে বিমানটিকে অতিক্রম করে একটি রুশ বিমান। মার্কিন বিমানচালকরা দাবি করেছে, বিামন পরিচালনায় নির্দেশনা মানেননি রুশ বৈমানিকরা। তবে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রুশ দূতাবাস এক টুইটবার্তায় দাবি করে, ‘রুশ বিমানটি সবধরনের নিরাপত্তা প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছে। তারা মার্কিন বিমানটিকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে গেছে যেন রুশ আকাশসীমা লঙ্ঘন না হয়। তবে পেন্টাগনের দাবি, মার্কিন নেভি বিমানের পাঁচ ফিট দূরত্বের মধ্যেই ছিলো রুশ জেট বিমান।
এর আগে জানুয়ারিতে এমন ঘটনা ঘটেছিলো। মার্কিন নৌবাহিনীরবিমান ইপি-৩ এর পাঁচ ফিট দূরত্বে চলে আসে রুশ এসইউ-২৭ বিমান। সেটাকেও মার্কিন নেভি অনিরাপদ ও অপেশাদার আচরণ বলে অভিহিত করেছিলো। যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করে রাশিয়া বারবার আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে। এরপর মে মাসে বলটিক সাগরের ওপর দিয়ে আবারও একই ঘটনা ঘটে। মার্কিন নেভির একটি নজরদারি বিমানকে প্রতিহত করে রুশ ফাইটার জেট। সেটাকেও ‘অপেশাদারী আচরণ’ আখ্যা দিয়েছিলো যুক্তরাষ্ট্র। সেসময় মার্কিন বিমান থেকে ২০ ফিট দূরত্বে ছিলো রুশ ফাইটার জেট।








